গত বছর ৫ অগস্ট বাংলাদেশে ক্ষমতার পালা বদলের পর রাজনীতিকদের পাশাপাশি পেশাজীবীদের মধ্যে শিক্ষক সম্প্রদায়ের উপর সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার খাঁড়া নেমে এসেছে।

সংঘর্ষ চলার সময় বুক উঁচিয়ে দাড়িয়েছিলেন আবু সাঈদ
শেষ আপডেট: 30 June 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোটা বিরোধী আন্দোলনে (anti quota agitation in Bangladesh) গত বছর ১৬ জুলাই রাজপথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ (Abu Saheed of Begum Rokeya University of Bangladesh)। ইংরিজি বিভাগের ছাত্র সাঈদ সেদিন রাজপথে কোটা বিরোধী আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে নিহত হন। সোমবার সেই মামলায় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal, Dhaka)। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মহম্মদ হাসিবুর রশিদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছ।
আবু সাঈদের হত্যা মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সে তালিকায় সাবেক উপাচার্য ছাড়াও বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লিগের বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশের নাম রয়েছে।
গত বছর ৫ অগস্ট বাংলাদেশে ক্ষমতার পালা বদলের পর রাজনীতিকদের পাশাপাশি পেশাজীবীদের মধ্যে শিক্ষক সম্প্রদায়ের উপর সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার খাঁড়া নেমে এসেছে। আওয়ামী সমর্থক এবং সম্প্রদায়ের বহু শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। অনেককে মত তৈরি করে প্রতিষ্ঠান থেকে মারতে মারতে বের করে দেওয়া হয়।
আবু সাঈদ বুলেট বিদ্ধ হয়ে মারা গেলেও পুলিশ নাকি অন্য কারও গুলিতে নিহত হন তিনি তা নিয়ে বিতর্ক আছে। এমনও অভিযোগ আছে, বিকাল ৩টায় তিনি গুলিবিদ্ধ হলেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল রাত আটটায়। এত সময় গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে কোথায় রাখা হয়েছিল তা নিয়ে ধোঁয়াসা আছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে পুলিশের দিকে বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ওই অবস্থায় কে বা কারা তাঁকে গুলি করে তার কোনও ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের জেলা রংপুরের ওই ঘটনা কোটা বিরোধী আন্দোলনকে হাসিনা সরকারকে উৎখাতের আন্দোলনের রূপ দিতে সহায়তা করেছিল বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু রাজপথের আন্দোলন, সংঘর্ষে মৃত্যুতে কীভাবে উপাচার্য, প্রক্টর যুক্ত থাকতে পারেন তা স্পষ্ট নয়।