চলতি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে রপ্তানি খাতে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি চলে গ্যাস এবং ডিজেল সহ একাধিক প্রাকৃতিক জ্বালানিতে।

তারেক রহমান
শেষ আপডেট: 20 March 2026 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে চলেছে তারেক রহমানের সরকার (Tarique Rahman)। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মামুন তিতুমীর জানিয়েছেন ঋণ নেওয়ার বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। সুদের হার নিয়ে এখন আলোচনা চলছে প্রতিষ্ঠান দুটি সঙ্গে।
বাংলাদেশ সরকার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা আইএমএফ এর সঙ্গে এই ঋণের ব্যাপারে আলোচনা চালাচ্ছে। ওই দুই সংস্থার সঙ্গে ঋণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আলোচনা সূত্রপাত হয়েছিল। দুই সংস্থাই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কতগুলি শর্ত আরোপ করে। তার মধ্যে একটি হল, কিছু ক্ষেত্রে ভর্তুকি হ্রাস এবং সরকারের নিয়ম কানুন শিথিল করা।
সরকারি সূত্রের খবর, বাংলাদেশের নতুন সরকার আসন্ন গ্রীষ্মে বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করছে। ওই সময় যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় সেজন্য বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও কয়লা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে দেশটিকে। ভারতের সংস্থা রিলায়েন্স পাওয়ার বাংলাদেশকে হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। এই বিদ্যুতের পরিমাণও বাড়ানোর প্রয়োজন হবে বলে মনে করছে দেশটির বিদ্যুৎ কর্তারা।
চলতি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে রপ্তানি খাতে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি চলে গ্যাস এবং ডিজেল সহ একাধিক প্রাকৃতিক জ্বালানিতে।
ঢাকার এক সরকারি কর্তা বলেন, বাড়তি জ্বালানি আমদানি করার জন্য বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সদ্য ক্ষমতায় আসা সরকার এখনই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চাইছে না। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দিন কয়েক আগে জানিয়েছিলেন সরকারের আর্থিক হাল ফেরাতে কিছু জিনিসের উপর কর আরোপ করা ছাড়া উপায় নেই।
নতুন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত বাজেট পেশ হয়নি। কর বৃদ্ধির বিষয়টি বাজেটের সময় বিবেচনা করা হবে। তবে সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হবে না। সেই জন্য উৎপাদন এবং জোগান স্বাভাবিক রাখতে সরকার ঋণ নিতে আগ্রহী।