
শেষ আপডেট: 3 October 2023 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেঙ্গি ভাইরাসদের (Dengue) মধ্যে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী। মশার লালা থেকে মানুষের শরীরে ঢুকে দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। সঠিক সময় চিকিৎসা না হলে মৃত্যু অবধারিত। এমনই ভয়ঙ্কর ডেঙ্গি ভাইরাস ছড়িয়েছে বাংলাদেশে। মৃত্যু হাজারের বেশি। সংক্রমিত অন্তত লাখ দুয়েক।
বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০১৭ জনের। মৃতদের মধ্যে শিশু ও কমবয়সির সংখ্যা শতাধিক। হাসপাতালগুলিতে ডেঙ্গি আক্রান্তদের ভিড়।
বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর) জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছরে ডেঙ্গির দাপট মারাত্মক বাংলাদেশে। কারণটাই হল ডেনভি-৩ ডেঙ্গি ভাইরাসের প্রকোপ। মনে করা হচ্ছে, এই ভাইরাস প্রচুর মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। আক্রান্তদের রক্তে পাওয়া ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের গঠন বিন্যাস বের করে ভাইরাসের হালহকিকতের খোঁজ চালাচ্ছেন গবেষকরা। ডেনভি-৩ রূপ বদলেছে কিনা বা কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে, তা জানার জন্য পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে।
২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গির প্রকোপ মারাত্মক বেড়েছে বাংলাদেশে। ধূম জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মাথা যন্ত্রণা, বমিভাব, ঝিমুনি, পেশিতে ব্যথা হচ্ছে রোগীদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গির পাশাপাশি মশাবাহিত জিকা ভাইরাস, পীত জ্বর, চিকুনগুনিয়ার দাপটও বেড়েছে বাংলাদেশে।
ঢাকাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সূত্রের খবর, শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে ডেনভি-৩ ভাইরাসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার লালার সঙ্গে ডেনভি-৩ শরীরে ঢুকে গেলে খুব তাড়াতাড়ি রোগ ছড়াতে পারে। এখন যে সমস্ত উপসর্গ দেখা যাচ্ছে তাতে বাচ্চাদের জ্বর অত বেশি হচ্ছে না, কিন্তু গাঁটে গাঁটে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। রক্তে প্লেটলেট বা অনুচক্রিকা কমে যাচ্ছে।
ডেঙ্গির বাহক মশা, কিন্তু আসল কলকাঠি নাড়ে ডেঙ্গু ভাইরাসরা (DENV)। এরা হল সিঙ্গল, পজিটিভ-স্ট্র্যান্ডেড আরএনএ ভাইরাস। ফ্ল্যাভিভিরিডি পরিবার ও ফ্ল্যাভিভাইরাস গণের এই ডেঙ্গি ভাইরাসের পরিবার অনেক বড়। এদের পাঁচ রকমের সেরোটাইপ আছে যারা প্রত্যেকেই ভয়ঙ্কর রোগ তৈরি করতে পারে। স্ত্রী এডিস ইজিপ্টাই (aedes aegypti) মশা এই ভাইরাসদের বাহক। এরা আবার ইয়েলো ফিভার ভাইরাস, জিকা ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসেরও বাহক।
ডেনভি ভাইরাসের চারটি ভ্যারিয়ান্টই সংক্রামক—ডেনভি-১, ডেনভি-২, ডেনভি-৩ ও ডেনভি-৪। এদের মধ্যে ডেনভি-৩ ভাইরাস অতি সংক্রামক। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে ডেনভি-৩ ভাইরাস চিহ্নিত করেন গবেষকরা। এর ভ্যারিয়ান্ট নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক অঞ্চলেই সংক্রমণ ছড়ায়। কত দ্রুত মানুষের শরীরে এই ভাইরাস রোগ ছড়াতে পারে তা দেখতে একটা সময় ‘ডেনভি-৩ লাইভ হিউম্যান চ্যালেঞ্জ’ (DENV-3-LVHC) নামে ক্যাম্পেনও করা হয়েছিল। সেখানে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের রক্তের নমুনা নিয়ে ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেন বিজ্ঞানীরা।
বিসিএসআইআর জানাচ্ছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এই ডেঙ্গি ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছিল। ২০১৯ সালে মহামারীর মতো ছড়িয়েছিল ডেঙ্গি, তার জন্যও এই ভাইরাসই দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। সে বছর লক্ষাধিক মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১৭৯ জন।