'নিষিদ্ধ' আওয়ামী লিগের ভূমিকা কী হবে? দু'দিন আগে দ্য ওয়াল-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের (Obaidul Quader, General Secretary to Awami League) স্পষ্ট জানান, আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন হতে পারে না বাংলাদেশে। আওয়ামী লিগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করবে।

শেষ আপডেট: 9 August 2025 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব কিছু ঠিকঠাক মতো এগলে বাংলাদেশে আগামী (Bangladesh Awami League) বছরের ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর আগে জাতীয় সংসদ (Parliament election in Bangladesh) নির্বাচন হওয়ার কথা। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের (Chief Advisor Md Yunus) অফিস নির্বাচন কমিশনকে ওই সময় ভোট করার প্রস্তুতি নিতে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন।
ওই নির্বাচনে 'নিষিদ্ধ' আওয়ামী লিগের ভূমিকা কী হবে? দু'দিন আগে দ্য ওয়াল-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের (Obaidul Quader, General Secretary to Awami League) স্পষ্ট জানান, আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন হতে পারে না বাংলাদেশে। আওয়ামী লিগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করবে।
সাধারণ সম্পাদকের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই আওয়ামী লিগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সভায় বলেছেন, 'নো হাসিনা, নো ভোট'(No Hasina No Vote), এই হল আমাদের আগামী দিনের স্লোগান। তিনি অবশ্য বৈঠকে এর সঙ্গে যোগ করেন, 'ইয়েস হাসিনা, ইয়েস ভোট।' অর্থাৎ হাসিনা তথা আওয়ামী লিগকে সঙ্গে নিয়ে ভোট করতে হবে। নচেৎ ভোট হবে না।
ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকা হয়েছিল ইউনুস সরকারের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে। দিনটি আওয়ামী লিগ কালো দিবস হিসাবে পালন করে।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লিগের আরও একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পর্যায়ের নেতারা হাজির ছিলেন। সেই বৈঠকেও একাধিক নেতা ভোট প্রতিহত করার পক্ষে সওয়াল করেন। বলেন, আওয়ামী লিগকে ছাড়া ভোট হয়ে গেলে প্রত্যাবর্তণ আরও কঠিন হবে। ভোট আটকানোই এখন পাখির চোখ করতে হবে।
আওয়ামী লিগের আর এক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়ে জোর করে নির্বাচন হলেও তা বৈধ হবে না। দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিরোধীদের উপেক্ষা করে নির্বাচন করিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণ আন্দোলনের মুখে সেই সরকারকে পনেরো দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে হয়। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লিগ নেত্রীর বিরুদ্ধে তথাকথিত গণ অভ্যুত্থান ছিল একটি ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনা মানুষের গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফিরবেন।
শুক্রবার রাতের বৈঠকে সুজিত রায় নন্দী ৯৬-এ খালেদার নির্বাচনের পাশাপাশি ১/১১ সরকারের সময়ে শেখ হাসিনাকে নির্বাচনী ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আওয়ামী লিগের আন্দোলনের ফলে তা সম্ভব হয়নি।
গত ১২ মে ইউনুস সরকার আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এরপরই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সবচেয়ে পুরনো দলটির রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করে দেয়। চলতি পরিস্থিতিতে হাসিনার দলের ভোটে অংশ নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। হাসিনার দলকে বাদ দিয়ে ভোট করার পক্ষে বিএনপি-জামাত-এনসিপি সহ বেশিরভাগ দল।
বাংলাদেশে বিগত নির্বাচনগুলিতে দেখা গিয়েছে, আওয়ামী লিগের গড়ে ৪০ শতাং ভোট আছে। নির্বাচনের সময় ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লিগকে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের দলের অবস্থান জানাতে হবে। দলীয় সূত্রের খবর, দল সরকারিভাবে একটি বিবৃতি দেবে ভোট নিয়ে অবস্থান জানিয়ে। দলও নির্বাচন প্রতিহত করার ডাক দেবে।
হাসিনার দলের ভোট আটকানোর অবস্থানের পিছনে আরও একটি কারণ আছে। আওয়ামী লিগ যেমন ইউনুস সরকারের পতন চায় তেমনই তারা বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা আটকাতেও বদ্ধপরিকর। হাসিনার দলের একাধিক নেতা একান্তে বলছেন, তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে আওয়ামী লিগকে নিকেশ করার অভিযানে নামবেন। তিনি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার নামে হিংসায় মাতবেন, আশঙ্কা তাঁদের। ফলে এখনকার থেকেও নিপীড়ন, নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।