Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মিছিলে না যাওয়ায় নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, শুভেন্দুকে শো-কজের দাবিIPL 2026: ‘তাহলে আমার তত্ত্ব ভুল ছিল না!’ বৈভবের বিরল ব্যর্থতা দেখে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ইরফানের I PAC: ৫০ কোটির বেআইনি লেনদেন, আই প্যাক ডিরেক্টর ভিনেশের বিরুদ্ধে ৬ বিস্ফোরক অভিযোগ ইডিরWest Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?

ট্রাম্প পত্নীর আমন্ত্রণে আমেরিকায় বাংলাদেশের সমস্যা, তারেকের সংকল্প তুলে ধরলেন স্ত্রী জুবাইদা

ওয়াশিংটনের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন 'নতুন প্রযুক্তি প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সরকার তৎপর।' বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে ওয়াশিংটনে দু'দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। 

ট্রাম্প পত্নীর আমন্ত্রণে আমেরিকায় বাংলাদেশের সমস্যা, তারেকের সংকল্প তুলে ধরলেন স্ত্রী জুবাইদা

তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান।

শেষ আপডেট: 25 March 2026 12:10

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সে দেশে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান (Zubaida Rahman)। ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে (Fostering the Future Together Global Coalition Summit) যোগ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিয়েছেন চিকিৎসক জুবাইদা। ‌এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক।  

ভাষণে তারেক পত্নী শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে তাঁর ভাবনা এবং বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন। ওয়াশিংটনে আয়োজিত ওই সম্মেলনে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এর নিয়ন্ত্রিত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবহারের উপর জোর দেন।‌ তিনি মনে করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। এজন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করতে উন্নত বিশ্বের কাছে আহ্বান জানান তারেক পত্নী।

তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সঙ্গে তিনিও ১৭ বছর দেশ ছাড়া ছিলেন। স্বামী লন্ডনে রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকার সময় চিকিৎসক জুবাইদাও ১৭ বছর সেখানে ছিলেন। ‌তবে কয়েক হাজার মাইল দূরে বাস করলেও তিনিও যে‌ স্বামীর মত দেশের খুঁটিনাটি খবর রাখতেন স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর নানা আলোচনায় তা স্পষ্ট হয়েছে।

ওয়াশিংটনের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন 'নতুন প্রযুক্তি প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সরকার তৎপর।' বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে ওয়াশিংটনে দু'দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। 

 

মেলানিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিকিৎসক জুবাইদা রহমান বলেন,জুবাইদা রহমান বলেন, ঐতিহাসিক ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ (Fostering the Future Together Global Coalition Summit) যোগ দিতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের।

ভাষণে শিশুদের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও অনেক কথা বলেছেন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বকারী জুবাইদা। এই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর সদ্যপ্রয়াত শাশুড়ি বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের উল্লেখ করেন। নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য খালেদা সরকার অতীতের প্রশংসিত হয়েছে

শিশুদের প্রসঙ্গে জুবাইদা বলেন, শিশুরাই যে কোন দেশের ভবিষ্যৎ। শিশুদের নিয়ে প্রতিটি দেশের দেশের আগামীর অঙ্গীকার, সংকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সকলকে একত্রিত করার জন্য আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তারেক পত্নী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ লেখা হয় সেই দেশের শিশুদের জীবনের পাতায়। আজ আমরা তাদের যে শিক্ষা প্রদান করি এবং যে মূল্যবোধে তাদের বড় করি, তার মাধ্যমেই তারা আগামীদিনের জাতি গঠন করে।’

তিনি আরও বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সেই কাজে আমি চিকিৎসার আগে জোর দেব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায়। যাতে আমাদের শিশুদের অসুখ-বিসুখ কাবু করতে না পারে। তিনি গ্রাম ও শহরের মধ্যে পরিষেবার ঘাটতি এবং বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণে জোর দেন। ‌

তিনি বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে তাঁর স্বামী তারেক রহমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধি আনয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

ডা. জুবাইদা রহমানের সহকারী হিসেবে অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মহম্মদ আমান উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা মিস মেহনাজ মান্নান অংশগ্রহণ করেন। আমেরিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ অব মিশন ডিএম সালাহউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

ডা. জুবাইদ রহমান বলেন, আমি আমার দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এখানে এসেছি। আমার স্বামী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আমাদের সদ্য নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ম্যানডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা পরিবারগুলোকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করে এবং শিশুদের নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠাও নিশ্চিত করে। একজন চিকিৎসক হিসেবে, আমি প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; যেখানে শুধু চিকিৎসার উপরই নয়, জীবনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রতিরোধের উপরও জোর দেওয়া হয়।

অন্তর্ভূক্তি ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-জেডআরএফ’ এবং ‘সুরভী‘র সামাজিক এবং অলাভজনক সংগঠন) সঙ্গে আমার কাজ শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের প্রসারে আমার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপকরণের সহজলভ্যতা এখনও অধরা। আমাদের সরকার ডিজিটাল যুগে উন্নতি করার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করছে। আমাদের সরকার শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার সরবরাহ করছে, শিক্ষণ উপকরণ হালনাগাদ করছে, ডিজিটাল পাঠ্যক্রম এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি চালু করছে। শ্রেণিকক্ষগুলো মাল্টিমিডিয়া বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হচ্ছে, যা দলবদ্ধ কাজ, সৃজনশীলতা এবং আদর্শ স্থাপনে উৎসাহিত করছে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রযুক্তি, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি (এডটেক), শহুরে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য কমাতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। একই‌ সঙ্গে আমরা এই সরঞ্জামগুলির নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। 
 
তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারি খাতের ভিত্তি স্থাপন করে লক্ষ লক্ষ নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। এই প্রচেষ্টাগুলি প্রমাণ করে যে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবারগুলি শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধি লাভ করে। আমরা অংশীদারিত্বের গুরুত্বও স্বীকার করি। বেসরকারি খাত এবং আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর প্রসারিত করতে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন করতে এবং সকলের জন্য শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই। শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে, আমরা প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করতে, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করতে এবং প্রতিটি শিক্ষণ যাত্রাকে ব্যক্তিগতকৃত করতে চাই। একসাথে, আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি যা হবে সহনশীল, সহানুভূতিশীল এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত।


```