শুধু চট্টগ্রাম নয়, গোটা বাংলাদেশে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা, অনুষ্ঠানে সেনা-পুলিশের যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষণীয়। সংখ্যালঘুদের সংগঠনগুলির অভিযোগ নিরাপত্তা দেওয়ার নামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসন নিশ্চিত করতে চাইছে কেউ যেন সরকার বিরোধী কথাবার্তা না বলে।

শেষ আপডেট: 16 August 2025 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা থেকে হিন্দু সাধু চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিলেন সাধারণ জনতা। তৎপর পুলিশ অবস্তিকর স্লোগান থামাতে তৎক্ষণাৎ ছয় যুবককে মিছিল থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। রাষ্ট্রদ্রোহ, খুন ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের মামলায় গত বছরের নভেম্বর থেকে চট্রগ্রাম জেলে বন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, গোটা বাংলাদেশে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা, অনুষ্ঠানে সেনা-পুলিশের যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষণীয়। সংখ্যালঘুদের সংগঠনগুলির অভিযোগ নিরাপত্তা দেওয়ার নামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসন নিশ্চিত করতে চাইছে কেউ যেন সরকার বিরোধী কথাবার্তা না বলে।
ঢাকার শোভাযাত্রার সূচনা করেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিমান ও নৌ বাহিনীর প্রধানেরা। সেই কারণে শোভাযাত্রায় বিপুল সংখ্যায় সেনার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবারই দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস।
এক বার্তায় তিনি বলেন, 'সমাজে সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে শ্রীকৃষ্ণ আজীবন ন্যায়, মানবপ্রেম ও শান্তির বাণী প্রচার করেছেন। শ্রীকৃষ্ণ যেখানেই অন্যায়-অবিচার দেখেছেন, সেখানেই অপশক্তির হাত থেকে শুভশক্তিকে রক্ষার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন।'
বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর পুজো কমিটির উদ্যেগে শনিবার সকাল থেকে ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব পালন শুরু করে। সকাল আটটায় শুরু হয় গীতাপাঠ। দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করে হয় যজ্ঞ।
ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, খুলনা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লার মতো বড় শহর-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে উৎসব-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যদিও সংখ্যালঘু নেতাদের বক্তব্য, সরকার লোক দেখানো কিছু পদক্ষেপ করেছে। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, মামলার ঘটনার কোনও প্রতিকার করা হচ্ছে না। চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস তাঁর বার্তায় আরও বলেছেন, আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছে। শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ভরপুর বৈষম্যমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তাঁর কথায়, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার৷ আমরা সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। সমাজে বিদ্যমান শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।