বৃহস্পতিবার সকালে ৬টা ১৪ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.১। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে কম্পন সৃষ্টি হয় বলে ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 December 2025 08:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফের ভূমিকম্প (Earthquake) হয়েছে। আগের চারটির ভূমিকম্পের মতো এবারও উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার অদূরে অবস্থিত নরসিংদী (Narsinghdi) জেলা। বাংলাদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে ভূমিকম্পটি ছিল অল্প মাত্রার। ফলে এখনও পর্যন্ত হতাহত, ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।
বৃহস্পতিবার সকালে ৬টা ১৪ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.১। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে কম্পন সৃষ্টি হয় বলে ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে।
নিকট অতীতে এই নিয়ে চারবার ভূমিকম্প হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এক ডিসেম্বর গভীর রাতে নরসিংদীকে কেন্দ্র করে ভূমিকম্প হয়েছিল। তার আগে ২৭ এবং ২১ নভেম্বর ভূমিকম্প হয়।
২১ তারিখের ভূমিকম্প ছিল বড় মাত্রার এবং তাতে প্রায় ১৫ জন মানুষ নিহত হন। ঢাকা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। আহত অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন।
গত ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। হঠাৎ কম্পন শুরু হতেই ঢাকার মোহাম্মদপুর, তেজকুনিপাড়া, মিরপুর, গুলশান ও পুরান ঢাকার বহু মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কলকাতা ও কলকাতার শহরতলি এলাকাতে এই কম্পন বেশ ভালমতো টের পাওয়া যায়। কম্পন স্থায়ী ছিল কয়েক সেকেন্ড। তবে স্বল্প সময়ের এই কম্পনও মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভয়ের সঞ্চার করে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS) জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের নরসিংদী (Narsingdi) জেলা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৫.৫।
ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা নরসিংদী, যা ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের পূর্ব-মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। এর টপোগ্রাফি মূলত নিম্নভূমি, সমতল প্লাবনভূমি ও ব্যাপক নদী-বাহিত বালুময় এলাকায় গঠিত। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার শাখা নদীগুলোর প্রবাহ এই জেলার ভূপ্রকৃতিকে দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তিত করে এসেছে।
এখানকার মাটি মূলত অ্যালুভিয়াল (নদীবাহিত), যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উর্বর। ধান, সবজি, পাট, আখ ও ফলচাষ এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে হয়। সমতল টপোগ্রাফির কারণে এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়, কারণ ঢালে বা পাহাড়ি অঞ্চলের মতো ভূপ্রকৃতিগত প্রতিবন্ধকতা এখানে নেই।
নরসিংদী শহর ও এর উপকণ্ঠে ঘনবসতি এবং বাড়তে থাকা শিল্পায়ন ভূকম্পনের সময় ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করা হয়।