স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাট নিয়মিত গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে জোর করে টাকা তুলতেন।

শেষ আপডেট: 25 December 2025 20:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৭ বছরের তরতাজা যুবক দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি, সেই নিয়ে উত্তাল বাংলাদেশ। তার মধ্যেই ওপার বাংলায় ফের গণপিটুনিতে হিন্দু যুবকের হত্যার ঘটনা সামনে এল (Hindu man lynched in Bangladesh)। এবার ঘটনাস্থল রাজবাড়ি জেলা (Rajbari lynching case)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই হিংসা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ রাজবাড়ির একটি গ্রামে এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে (Bangladesh lynching)। নিহতের নাম অমৃত মণ্ডল (৩০), ডাকনাম সম্রাট। তিনি ওই গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে রাত প্রায় ২টো নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন, জানিয়েছে ‘দ্য ডেইলি স্টার’।
অস্ত্রসহ আটক এক সহযোগী
এই ঘটনার পর পুলিশ সম্রাটের এক সহযোগী মহম্মদ সেলিমকে আটক করেছে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি পিস্তল এবং একটি স্থানীয়ভাবে তৈরি ওয়ান-শুটার বন্দুক।
পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, সম্রাটের বিরুদ্ধে কমপক্ষে দু’টি মামলা ছিল, যার মধ্যে একটি খুনের মামলা। পুলিশের অভিযোগ, সম্রাট নিজেই ‘সম্রাট বাহিনী’ নামে একটি স্থানীয় দল তৈরি করেছিলেন এবং সেই দলের মাধ্যমে এলাকায় ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ কী?
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাট নিয়মিত গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে জোর করে টাকা তুলতেন। জানা গিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে ছিলেন এবং সম্প্রতি গ্রামে ফিরে আসেন।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে সম্রাট, শহিদুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার কাছে তোলাবাজির টাকা দাবি করেন। টাকা তুলতে তিনি কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে শহিদুলের বাড়িতে যান।
সে সময় পরিবারের লোকজন ‘ডাকাত এসেছে’ বলে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের গ্রামবাসীরা জড়ো হয়ে যান। এরপরই সম্রাটের উপর হামলা চালানো হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালাতে সক্ষম হলেও সেলিম অস্ত্র-সহ ধরা পড়েন এবং পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ধারাবাহিক গণপিটুনিতে উদ্বেগ
এই ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশে গণপিটুনির একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েক দিন আগেই ময়মনসিংহ জেলায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে ধর্মনিন্দার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দীপু চন্দ্র দাসকে প্রথমে মারধর করা হয়, তারপর গাছে বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘নিউ বাংলাদেশ’-এ সাম্প্রদায়িক ঘৃণা বা গণহিংসার কোনও জায়গা নেই। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
অশান্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই হত্যাকাণ্ডগুলি ঘটছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র অশান্তি চলছে। রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু, যিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার জেরে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ।
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ, ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে।