বছরের এই সময়ে এত বড় ইলিশ মেলে না বললেই চলে। তাই মাছটি ঘাটে আনা মাত্রই ভিড় জমে যায় স্থানীয়দের। অনেকে মোবাইলে ছবি তোলেন, কেউ আবার এটিকে ‘বর্ষসেরা ইলিশ’ বলে উল্লেখ করেন।

শেষ আপডেট: 26 November 2025 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh) ভোলার মেঘনা নদীতে ধরা পড়েছে বিরল আকারের এক ইলিশ—ওজন পুরো ২ কেজি (2kg Hilsa)। স্থানীয় জেলেরা একে নাম দিয়েছেন ‘রাজা ইলিশ’ (King Hilsa)। বুধবার সকালে সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মাছঘাটে নিলামে বিক্রি হয় বিশালাকার ওই ইলিশটি। দাম উঠেছে ৮ হাজার ২১০ টাকা। ভারতীয় মুদ্রায় দাম হবে ৬০১৯ টাকা। অর্থাৎ ৩ হাজার টাকা কেজি।
মাছ দেখতে ভিড় স্থানীয়দের
বছরের এই সময়ে এত বড় ইলিশ মেলে না বললেই চলে। তাই মাছটি ঘাটে আনা মাত্রই ভিড় জমে যায় স্থানীয়দের। অনেকে মোবাইলে ছবি তোলেন, কেউ আবার এটিকে ‘বর্ষসেরা ইলিশ’ বলে উল্লেখ করেন।
জেলের জালে কীভাবে এল রাজা ইলিশ?
জেলে জামাল উদ্দিন মাঝি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভোরে চারজন সঙ্গীকে নিয়ে ছোট ট্রলারে মেঘনায় নামেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মাঝনদীতে জাল ফেলতেই এতে ধরা পড়ে ২ কেজির ইলিশটি ও আরও চারটি বেলকা (জাটকা) ইলিশ। পরে মাছগুলো নিয়ে ঘাটে ফেরত আসেন। আড়তদার সরকার মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জসিম উদ্দিন ব্যাপারী নামে এক ক্রেতা নিলামে মাছটি কিনে নিয়েছেন। তিনি ঢাকায় নিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পারেন বলে ধারণা। অন্য চারটি জাটকা প্রতিটির দাম উঠেছে ৭৮০ টাকা।
প্রজনন মৌসুমের পরও বড় ইলিশ রহস্য
তুলাতুলি মাছঘাটের আড়তদার কামাল হোসেন জানান, ৪–২৫ অক্টোবর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা শেষে শীতের আমেজে সাধারণত পাঙাশ ও পোয়া বেশি ধরা পড়ে, ইলিশ নয়। তাই এক মাস পর ঘাটে এত বড় ইলিশ ধরা পড়া বেশ বিস্ময়কর।
ভোলা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইনে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “এ সময় নদীতে ইলিশ ওঠা স্বাভাবিক নয়। ধরা পড়া মাছটির বয়স কমপক্ষে দুই বছর।” তাঁর মতে, এ ঘটনাই প্রমাণ করে জাটকা সংরক্ষণ কতটা জরুরি। বাংলাদেশে শীতকালে সাধারণত ইলিশ তেমন ওঠে না। বিজ্ঞানী ও মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান ডিম ছাড়ার মৌসুম আশ্বিন–কার্তিক (সেপ্টেম্বর–অক্টোবর), যখন নদী–সাগরের পানি তুলনামূলক উষ্ণ থাকে। এই সময় মা ইলিশ উপকূলীয় অঞ্চল থেকে মেঘনা, পদ্মা, তেতুলিয়া ও আড়িয়াল খাঁর মতো মিঠেপানির দিকে উঠে আসে। প্রজনন শেষে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে পানির তাপমাত্রা কমে যায়, স্রোতের গতিও বদলায়। ফলে ইলিশ গভীর সমুদ্রে ফিরে যায় এবং নদীতে ওঠা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াও শীতকালে নদীর লবণাক্ততা, জলের স্তরের পরিবর্তন এবং খাদ্যের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় ইলিশ মিঠে জলের দিকে আসতে চায় না। গবেষণা জানায়, ২০–৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে জল থাকলে ইলিশ সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। শীতের সময়ে এই তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় মাছটি মূলত বঙ্গোপসাগরের গভীর অঞ্চলে অবস্থান করে।
তবে খুবই ব্যতিক্রমীভাবে, কখনও কখনও নদীতে বড় আকারের এক-দু'টি ইলিশ ধরা পড়ে। এগুলো সাধারণত বয়সে বড় ও শক্তিশালী মাছ, যেগুলোর চলাচল প্যাটার্নে স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্নতা দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন, স্রোতের অস্বাভাবিকতা বা খাবারের সন্ধানে অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এমন ইলিশ ওঠে। তাই শীতকালে ইলিশ ধরা পড়াকে বিরল ঘটনা হিসেবেই ধরা হয়।