নতুন গবেষণায় দাবি, ভিটামিন বি৩ ফ্যাটি লিভার কমাতে সাহায্য করতে পারে। কীভাবে কাজ করে, জানুন বিস্তারিত।

শেষ আপডেট: 26 March 2026 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চুপচাপ বাড়ে, ধরা পড়ে দেরিতে—আর একসময় গিয়ে শরীরকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver) এখন এমনই এক নীরব রোগ। এই রোগ প্রতিদিন অজান্তেই জায়গা করে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের শরীরে।
মেটাবলিজম (Metabolism) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা বলছে, খুব সাধারণ, সস্তা একটি ভিটামিন, ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন, ফ্যাটি লিভারের ক্ষতি যে শুধু থামাতে পারে তাই নয়, এটা উল্টে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন শরীরের ভেতরের এক অদ্ভুত ‘মলিকিউলার সুইচ’। এই সুইচটি চালু হলেই লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে। এই সুইচটির নাম microRNA-93 বা সংক্ষেপে miR-93।
ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত মানুষের শরীরে এই অণুর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। আর তখনই শুরু হয় সমস্যার আসল খেলা।
কারণ এই ছোট্ট অণুটি আসলে শরীরের এক ভালো জিনকে বন্ধ করে দেয়। সেই জিনের নাম SIRT1 gene। এই SIRT1 জিনের কাজ হল লিভারকে পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত চর্বি ভেঙে ফেলা, কোষকে সুস্থ রাখা।
কিন্তু miR-93 যখন এই জিনটাকে আটকে দেয়, তখন লিভার আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। চর্বি জমতে থাকে, কোষে দাগ পড়ে, আর ধীরে ধীরে তৈরি হয় ফাইব্রোসিস।
গবেষকেরা প্রায় ১৫০ ধরনের ওষুধ পরীক্ষা করে দেখেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন। এই ভিটামিনটি miR-93-এর মাত্রা কমাতে পারে, মানে, সেই ক্ষতিকর ‘সুইচ’টাকে বন্ধ করে দিতে পারে।
প্রাণীর ওপর করা পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তাদের লিভারে চর্বির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বেড়েছে যা ডায়াবেটিস ঠেকাতে সাহায্য করে এবং লিভারের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা উন্নত হয়েছে।
এই গবেষণার আর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভিটামিন বি৩ নতুন কোনও ওষুধ নয়। এটি আগে থেকেই FDA অনুমোদিত এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
ফলে একেবারে নতুন ওষুধের মতো দীর্ঘ পরীক্ষার ধাপ পার করতে হবে না। লিভারের রোগীদের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত ব্যবহার শুরু করার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
ফ্যাটি লিভার হয় তখনই, যখন লিভার ঠিকমতো চর্বি ভাঙতে পারে না। ফলে সেই চর্বি কোষে জমে যায়।
এই রোগ সাধারণত দু’ধরনের। একটি হল মেটাবলিক কারণে হওয়া ফ্যাটি লিভার, যা এখন MASLD বা MAFLD নামে পরিচিত। এর পেছনে থাকে, ওবেসিটি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি ফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস।
অন্যটি হল অ্যালকোহল-সম্পর্কিত ফ্যাটি লিভার, যা অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে হয়। অ্যালকোহল ভাঙার সময় যে ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়, তা লিভারের কোষকে নষ্ট করে দেয় এবং চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
কিছু ক্ষেত্রে অন্য কারণেও এই রোগ হতে পারে। যেমন, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, হঠাৎ দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, জেনেটিক কারণ বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা যেমন PCOS, হাইপোথাইরয়েডিজম, এমনকি হেপাটাইটিস সি সংক্রমণ।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ কোনও না কোনও ধরনের ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন। তবু এখনও এই রোগের নির্দিষ্ট, লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা খুব কমই রয়েছে।
এই জায়গাতেই নতুন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ যদি সত্যিই একটি সাধারণ ভিটামিন দিয়ে এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ বা উল্টে দেওয়া যায়—তাহলে তা কোটি কোটি মানুষের জন্য নতুন আশা হয়ে উঠতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.