শিশুদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। অলস জীবনযাপন আর নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়াই বিপদের মূল কারণ বলে জানালেন কলকাতার এক খ্যাতনামা চিকিৎসক।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 February 2026 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (Fatty Liver Disease)। বাড়িতে বেশি সময় কাটানো, বাইরে খেলাধুলো কমে যাওয়া আর অবাধ জাঙ্ক ফুড—এই তিনে মিলে বাড়ছে বিপদ। এমনই সতর্কবার্তা দিলেন চিকিৎসকরা। শুক্রবার সোনারপুরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ সায়েন্সেসে (IILDS) পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বিভাগ চালুর অনুষ্ঠানে উঠে এল শিশুদের গ্যাস্ট্রোসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এই উদ্বেগের কথা।
দেশে এমন বিভাগ-সহ হাসপাতালের সংখ্যা হাতে গোনা। অথচ শিশুদের গ্যাস্ট্রো রোগ ভয়ঙ্কর হারে বাড়ছে। শুক্রবার IILDS–এ পাঁচটি বেড নিয়ে চালু হল পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রো ইউনিট। পরে সেটি ১০ বেডে বাড়ানো হবে, জানালেন এক চিকিৎসক।
IILDS–এর গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বিভাগের প্রধান উজ্জ্বল পোদ্দার (Ujjal Poddar) বলেন, “শিশুদের খাবারদাবার পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। ২০ বছর আগে এত শিশুদের গ্যাস্ট্রো সমস্যা দেখা যেত না। এখন ১০-১১ বছরের শিশুরাও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছে।” তাঁর কথায়, “বেশিরভাগ সময়ই শিশুরা ঘরে থাকে, শারীরিক নড়াচড়া কম। জাঙ্ক ফুড খায়, পুরো শস্য বা ফল খায় না। এর ফলে লিভারে ফ্যাট জমছে এবং স্থূলতা বাড়ছে। অথচ দেশে শিশুদের জন্য আলাদা গ্যাস্ট্রো ইউনিট খুবই কম।”
দেশে যেসব হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রো বিভাগ আছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে PGIMER (Chandigarh), ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ (Chennai), এসএসকেএম হাসপাতাল এবং SGPGIMS (Lucknow)।
ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ থেকে IILDS–এ শুরু হবে ইনডোর ভর্তি এবং আউটডোর ক্লিনিক (OPD)। সপ্তাহে ছয় দিন চলবে পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রো OPD, জানালেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার হাসপাতালের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পালন করা হয়। পার্থ মুখোপাধ্যায় (Partha Mukherjee), হাসপাতালের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, জানান, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে OPD–তে ৪.৫ লক্ষ রোগীকে দেখা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার। তাঁর কথায়, “আমাদের OPD–র ১০ শতাংশেরও কম রোগীকে ভর্তি করতে হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভর্তি এড়ানো গিয়েছে, ফলে পরিবারগুলির অযাচিত খরচও বাঁচানো গেছে।”
অভিজিৎ চৌধুরি (Abhijit Chowdhury), হেপাটোলজিস্ট ও লিভার ফাউন্ডেশন–এর চিফ মেন্টর, বলেন, “ফ্যাটি লিভারের পাশাপাশি শিশুরা অপুষ্টি, পরজীবী সংক্রমণ এবং জন্মগত লিভার রোগে ভোগে। এগুলির জন্য বিশেষজ্ঞ নজর প্রয়োজন। প্রাপ্তবয়স্কদের গ্যাস্ট্রো চিকিৎসক শিশুদের রোগ ধরতে প্রশিক্ষিত নন।”
চিকিৎসকদের মতে, কিশোর-কিশোরীরাও এখনও পেডিয়াট্রিশিয়ানের চিকিৎসার আওতায় থাকে। দেশে এখন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা পেডিয়াট্রিক কেয়ার–এর উপর নির্ভরশীল—এমনটাই বলছেন এক চিকিৎসক।