খুব পরিচিত একটা কথা – ‘একটা চিপস খেয়ে কে আর থামে?’ বা ‘একটা চকোলেটের পর আরেকটা চাই’ এর পিছনেও রয়েছে বিজ্ঞান।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 July 2025 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিগারেটের প্যাকেটে বড় করে লেখা থাকে সতর্কবার্তা – ‘স্মোকিং ক্যানসারের কারণ।’ তবুও অনেকেই সেই শেষ টানটা ছাড়তে পারেন না। কারণ কী? এটা কিন্তু শুধুই অভ্যাস নয়, তা একধরনের আসক্তি। একবার শুরু হলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন।
একইভাবে আমাদের প্রতিদিনের পছন্দের খাবার তালিকায় থাকা আলুর চিপস, বার্গার, চকোলেট বা প্যাকেটের নুডলস - সবই আসলে এক ‘ফাঁদ’ বলা যেতে পারে। রঙিন মোড়ক, টকঝাল-মিষ্টি স্বাদে আমরা জগতসংসার ভুলে যাই, এগুলিও আসলে ‘নেশা’ তৈরি করে। আসলে জাঙ্ক ফুডও সিগারেটের নেশার মতোই বিপজ্জনক, বলছেন চিকিৎসক।
ফর্টিস হাসপাতাল, বসন্ত কুঞ্জ-এর গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ও হেপাটোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট শুভম বাতস্যা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সুপারমার্কেট থেকে স্কুল ক্যান্টিন—সব জায়গাতেই আলট্রা প্রসেসড ফুডস বা মাত্রাতিরিক্ত প্রসেসড খাবারের (Ultra Processed Foods) রমরমা। এই খাবারগুলো শরীরের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর। এতে থাকে মাত্রাতিরিক্ত চিনি, নুন, কৃত্রিম রঙ, প্রিজারভেটিভ কেমিক্যাল এবং তা ছাড়াও নানারকম কেমিক্যাল উপাদান। এগুলির প্রভাব সিগারেটের মতোই ভয়ানক। ওবেসিটি, হৃদরোগ, ক্যানসারের ঝুঁকি তো আছেই, বেশি খাওয়া সময়ের আগেই মৃত্যু ডেকে আনে।’
খাবারেও কি নেশা হয়? ডা: বাতস্যা বলছেন, ‘খাবারের নেশা ভীষণ সত্যি একটা ঘটনা। এবং বিজ্ঞান এই তথ্যকে সমর্থন করে।’
তাঁর ব্যাখ্যা, ‘সিগারেট বা কোকেন যেভাবে ব্রেনের ডোপামিন নিঃসরণ ঘটায়, ঠিক তেমনই অতিরিক্ত চিনি, নুন ও ফ্যাট যুক্ত খাবারও ব্রেনে সেই রসায়ন তৈরি করে। ফলে বারবার এমন খাবার খাওয়ার ইচ্ছে জাগে, খিদে না পেলেও খেতে ইচ্ছে করে। ধূমপানের মতোই, জাঙ্ক ফুডও হয়ে ওঠে মানসিক ভরসার জায়গা। একাকীত্ব, স্ট্রেস বা সামাজিক চাপে এই সব খাবারের দ্বারস্থ হওয়া স্বাভাবিক হয়ে পড়ে।’
খুব পরিচিত একটা কথা – ‘একটা চিপস খেয়ে কে আর থামে?’ বা ‘একটা চকোলেটের পর আরেকটা চাই’ এর পিছনেও রয়েছে বিজ্ঞান।
ডা: বাতস্যা বলেন, ‘এই খাবারগুলিকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তা হয় অতিমাত্রায় লোভনীয়। দীর্ঘ উপাদান তালিকায় এমন অনেক কেমিক্যাল থাকে, যেগুলোর নামই আমরা চিনি না। এগুলি ব্রেনের রিওয়ার্ড সেন্টারকে এতটা উত্তেজিত করে যে, একবার খেলে থামা যায় না।’