ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে হোমিওপ্যাথিতে কোন কোন ওষুধ ব্যবহার করা হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে Colchicum, Ledum Palustre-সহ কয়েকটি ওষুধ উপসর্গ অনুযায়ী দেওয়া হয়।

শেষ আপডেট: 5 March 2026 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখন আকছার শোনা যায়, রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের (High uric acid) মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কথা। হাই ব্লাড সুগার, হাই প্রেশারের মতো ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid) বৃদ্ধির সমস্যাও এখন খুবই সাধারণ বিষয়। প্রধানত আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্যই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের এত বাড়বাড়ন্ত।
শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের (uric acid) পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে হাড়ে ব্যথা, গেঁটে বাত, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যার মতো নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যার জন্য স্বাভাবিক জীবনযাপনে যথেষ্ট প্রভাব পড়তে পারে।
খানিকটা ভয়ে আর কিছুটা দুশ্চিন্তা থেকে অনেক মানুষ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন। তবে এমনটা করা কখনই যুক্তিযুক্ত নয়। খাওয়া দাওয়ায় অল্প নিয়ন্ত্রণ ও কিছু নিয়ম দৃঢ়ভাবে মানলেই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাছাড়া ওষুধও আছে। হোমিওপ্যাথির এমন কিছু ওষুধ আছে যা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
সাধারণত মহিলাদের ক্ষেত্রে, স্বাভাবিক ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ২-৬ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে মাত্রাটি সামান্য বেশি, প্রায় ৩-৭। যখন শরীর তার বর্জ্য পদার্থগুলিকে পরিষ্কার করতে পারে না, তখন ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে গাঁটের ব্যথা বাড়ে।
ধূমপান, অ্যালকোহল, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ইউরিক অ্যাসিড-এর অতিরিক্ত মাত্রা বাড়ে। অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে বা ওজন বাড়লে কখনও কখনও ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড শরীরের অস্থিসন্ধি ও মূত্রনালীতে থিতিয়ে পড়ে নানা রোগের জন্ম দেয়। থিতিয়ে পড়া ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টালের আকার নেয়। এটি গাঁটে ব্যথা ও প্রস্রাবের সংক্রমণ ডেকে আনে। এ ছাড়া কিডনিতে পাথরও জমতে পারে।
অ্য়াকোনাইট: কম বয়সে ইউরিক অ্যাসিড ভোগালে এবং অস্থিসন্থিতে ব্যথা হলে অ্যাকোনাইট খাওয়া যেতে পারে। এতে ভাল ফল পাওয়া যায়।
বেলেডোনা: ইউরিক অ্যাসিড জমতে জমতে গাঁটে গাঁটে লাল হয়ে অসম্ভব ফুলে গেছে, ব্য়থা হচ্ছে, তখন বেলেডোনা খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
আরটিকা ইউরেন্স: ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমাতে এই ওষুধেরও বেশ নাম আছে। আরটিকা ইউরেন্সের মাদার টিংচার উষ্ণ গরম জলে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে খেলে গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা অনেক কমে যাবে।
কলচিকাম ৩০/২০০: ইউরিক অ্যাসিডের সঙ্গে পাকস্থলীর অসুখে ভুগলে, পেটের রোগ ভোগালে তখন এই ওষুধ কার্যকরী হতে পারে।
বেঞ্জোয়িক অ্যাসিড ৩০: ইউরিক অ্যাসিডের কারণে গাঁটের ব্য়থা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে এবং প্রস্রাবে গন্ধ হলে বেঞ্জোয়িক অ্য়াসিড ৩০ প্রেসক্রাইব করেন হোমিওপ্যাথি ডাক্তাররা।
রক্তে ইউরিক অ্যাসিড (High uric acid) বাড়লে খাদ্য তালিকায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। ডায়েটের মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই এদিকে দৃষ্টি দেওয়া সবার আগে প্রয়োজন। যাঁদের প্রচুর ডিম, মাংস, মাছ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে বা যাঁদের ডায়েটে প্রোটিনের আধিক্যই বেশি, তাঁদের প্রোটিনজাত খাবারে একটু রাশ টানা জরুরি। অর্থাৎ প্রোটিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ, রেড মিট, ডাল, রাজমা, কাবুলি ছোলা, মটর, ব্রকলি, পালং শাক- এ সব কমিয়ে ফেলতে হবে।
শুধুমাত্র যে প্রোটিন কমাতে হবে, এমনটা নয়। পাশাপাশি বেশি বেশি মিষ্টি খাওয়াও চলবে না। মিষ্টিতে প্রোটিন তেমন না থাকলেও ভরপুর কার্বোহাইড্রেট থাকে। চিনি বা সুগারের কারণেও ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে। তাই দৈনন্দিন খাবারে মিষ্টির মাত্রা কমানো দরকার। যেমন ইচ্ছে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।
বাজারচলিত ফলের রস, শরবত, কোল্ডড্রিংকস খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। এই অভ্যেস শুধু ইউরিক অ্যাসিডের জন্য নয়। সার্বিক সুস্থতার পক্ষেও অন্তরায়। তাই এদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।