গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের হার্ট ডিজিজ সংক্রান্ত জিনগত সমস্যা নেই, তাঁদের মধ্যেও উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড হার্টের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ইউরিক অ্যাসিড নাকি বাড়াচ্ছে হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা? কীভাবে রাখবেন নিয়ন্ত্রণে?
শেষ আপডেট: 15 May 2025 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল হাই ইউরিক অ্যাসিড (Hyperuricemia) একটি পরিচিত সমস্যা হয়ে উঠেছে, যেখানে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের (uric acid) মাত্রা বাড়তে থাকে। শুরুতে এর তেমন লক্ষণ না থাকলেও, সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি শুধু গাঁটের ব্যথা নয়- কিডনি সমস্যা, এমনকী হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক-এর (heart attack) কারণও হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের হার্ট ডিজিজ সংক্রান্ত জিনগত সমস্যা নেই, তাঁদের মধ্যেও উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড হার্টের জটিলতা তৈরি করতে পারে। লাইফস্টাইলে পরিবর্তন (lifestyle changes) এনে কয়েকটি জিনিস মেনে চললেই ইউরিক অ্যাসিড থাকবে বাঁধনে, আর হার্ট থাকবে সুস্থ-

পিউরিনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন: রেড মিট, মেটেজাতীয় খাবার, বেকন, এমনকী সার্ডিনের মতো কিছু সি-ফুডে উচ্চমাত্রায় পিউরিন থাকে। এইসব খাবার শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়। সপ্তাহে ১–২ বার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে, তবে কতটা খাবেন সেই নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন: চিকিৎসকদের মতে, অ্যালকোহলের কোনও মাত্রাই সেই অর্থে নিরাপদ নয়। বিশেষত, বিয়ার ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়। আপনি যদি নিয়মিত মদ্যপান না করে থাকেন, তাহলে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়।

শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন: প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস জল খান। এতে কিডনি ইউরিক অ্যাসিড সহজে ফিল্টার করে বের করতে পারে। শুধু জল খেতে অসুবিধা হলে, লেবু, শশা বা আদা মিশিয়ে ডিটক্স ওয়াটার করে নিতে পারেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায় এবং তাতে হার্টের ওপর চাপ পড়ে। ব্যালেন্সড ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন কমিয়ে ইউরিক অ্যাসিড নিরাপদ মাত্রায় রাখা সম্ভব। আপনার ওজন স্বাভাবিক হলেও যাতে অতিরিক্ত না বাড়ে, সেটা নিশ্চিত করুন।

লো-ফ্যাটসমৃদ্ধ দুগ্ধজাত খাবারের অভ্যাস করুন: অনেকে দুধ খেতে ভীষণ ভালবাসেন। তাই দুধ একেবারে বাদ না দিয়ে, লো-ফ্যাট দুধ বা তা থেকে তৈরি দই, পনির রাখুন ডায়েটে। টোনড মিল্ক, বাড়িতে বানানো পনির বা দই খান—যাতে খাবারে ফ্যাটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

চিনি ও মিষ্টিজাতীয় পানীয় কমান: খাবারে বেশি পরিমাণ চিনি শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়িয়ে দিতে পারে। সফট ড্রিংকস, প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলি স্বাদে মিষ্টি না হলেও এর মধ্যে চিনি ও চিনিজাত উপাদান থাকে প্রচুর পরিমাণে। এতে ওজন বাড়ার সমস্যা থেকেও মুক্তি পাবেন।

দিনে কফির পরিমাণ কমান: দিনে এক থেকে দু’বার, তার বেশি কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনুন। এতে ইউরিক অ্যাসিড ও গাউটের ঝুঁকি কমবে। বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।