ফেস ট্রান্সপ্ল্যান্ট শুধু একটি অস্ত্রোপচার নয়, বরং পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত। এতদিন যাঁদের জন্য কার্যত আর কোনও সার্জারির পথ খোলা ছিল না, তাঁদের জন্যই এই উদ্যোগ বিশেষ আশার আলো দেখাচ্ছে।

আশা দেখাচ্ছে ফেস ট্রান্সপ্ল্যান্ট
শেষ আপডেট: 16 February 2026 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হার্ট, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মতোই করা সম্ভব ফেস বা মুখমণ্ডলের প্রতিস্থাপন (Face Transplant)! এদেশে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমনই এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল AIIMS Delhi। গুরুতর অ্যাকসিডেন্টে মুখমণ্ডল বিকৃতি নিয়ে বেঁচে থাকা রোগীদের জন্য দেশের প্রথম ফেস ট্রান্সপ্ল্যান্ট কর্মসূচি চালু করার কথা সম্প্রতি ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যাঁদের শ্বাস নেওয়ার সমস্যা, চোখের পাতা ফেলতে অসুবিধা, খাওয়া বা কথা বলার মতো মৌলিক কাজগুলো দুর্ঘটনাজনিত কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, এমন রোগীদের নাম ইতিমধ্যেই নথিভুক্ত করা শুরু করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসকদের মতে, এটি শুধু একটি অস্ত্রোপচার নয়, বরং পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত। এতদিন যাঁদের জন্য কার্যত আর কোনও সার্জারির পথ খোলা ছিল না, তাঁদের জন্যই এই উদ্যোগ বিশেষ আশার আলো দেখাচ্ছে।
এই জটিল প্রকল্পের নেতৃত্ব দেবে হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। বিভাগের প্রধান ডা. মনীশ সিংহল ও তাঁর দল ইতিমধ্যেই বিশেষ ওয়ার্কশপ, ট্রেনিং শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে তাঁরা হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করবেন।
তবে চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, সব রোগী এই অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত নন। রোগী বাছাই হবে অত্যন্ত সতর্কভাবে। বিশেষ করে যাঁরা ভয়াবহ দুর্ঘটনা বা আঘাতে মুখমণ্ডলের গঠন ও কার্যকারিতা হারিয়েছেন এবং প্রচলিত অন্য সব চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে— তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ফেস ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফল করতে শুধু সার্জনদের দক্ষতাই যথেষ্ট নয়। বহু বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে টিম গঠন করে কাজ করা প্রয়োজন। অস্ত্রোপচারের পর প্রতিস্থাপিত টিস্যুকে শরীর যাতে বাইরের কিছু ভেবে প্রত্যাখ্যান না করে, তার জন্য রোগীকে আজীবন ইমিউনো-সাপ্রেসিভ ওষুধ বা থেরাপি নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে কিডনি বিশেষজ্ঞদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাও রোগী ও পরিবারের পাশে থাকবেন। কারণ এই অস্ত্রোপচার মানুষের জীবনযাপন, আত্মপরিচয় ও মানসিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে।
পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে নৈতিক ও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড মেনে হয়, তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের এথিক্স কমিটিও নিয়মিত তদারকি করবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে ভারতে জটিল প্রতিস্থাপনমূলক সার্জারির ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে এবং বহু অসহায় রোগী নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাবেন।