সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টার কাজের চাপে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমছে, বাড়ছে উদ্বেগ। ডাক্তারদের বার্নআউট এখন বড় সংকট, যার প্রভাব পড়ছে রোগী পরিষেবাতেও।

ডাক্তাদের বার্নআউট এখন নিত্য বিষয় (এআই দিয়ে তৈরি ছবি)
শেষ আপডেট: 7 April 2026 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়ার্ল্ড হেলথ ডে (World Health Day)-তে যখন স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা রোগীদের ঘিরেই ঘোরে, তখন পর্দার আড়ালে থাকা এক বড় সংকট সামনে আসছে—ডাক্তারদের বার্নআউট (Doctor Burnout)। দীর্ঘ কর্মসময়, অতিরিক্ত রোগীর চাপ আর পরিকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত চিকিৎসকরা এখন চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন।
মালিক র্যাডিক্স হেলথকেয়ারের (Malik Radix Healthcare) ডিরেক্টর ডাঃ রবি মালিক (Dr Ravi Malik) স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এটা আর ব্যক্তিগত সহনশীলতার (Resilience) সমস্যা নয়, বরং গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার (Healthcare System) কাঠামোগত ত্রুটি। তাঁর কথায়, “এই ব্যবস্থা কার্যত চিকিৎসকদের সহ্যশক্তির উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
ফোর্টিস হাসপাতাল (Fortis Hospital), শালিমার বাগের (Shalimar Bagh) নেফ্রোলজিস্ট (Nephrologist) ডাঃ ভানু মিশ্র (Dr Bhanu Mishra) বলছেন, ভারতে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার শিফট (24–36 Hour Shifts) এখন প্রায় নিয়ম হয়ে গিয়েছে। সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টার বেশি কাজ (80+ Hours Work Week) করাও অস্বাভাবিক নয়। এতে বিশ্রামের সুযোগ প্রায় থাকে না।
এই ক্লান্তি (Fatigue) শুধু শারীরিক নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় (Decision-Making)। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ সাইকোলজিক্যাল মেডিসিন (Indian Journal of Psychological Medicine)-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা বলছে, মাত্র ২৫ শতাংশ চিকিৎসক কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের (Work-Life Balance) মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারেন। মহিলা চিকিৎসকদের উপর চাপ আরও বেশি।
ডাঃ মালিকের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তি স্মৃতি (Memory), মনোযোগ (Concentration) ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা তৈরি করে, ফলে চিকিৎসায় ভুলের (Medical Errors) ঝুঁকি বাড়ে। অর্থাৎ, এই সংকট শুধু ডাক্তারদের নয়, রোগীদের নিরাপত্তার (Patient Safety) সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
মানসিক চাপ (Mental Stress) এবং নিদ্রাহীনতা (Insomnia) পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। ডাঃ মিশ্র বলছেন, দীর্ঘ শিফটে কাজ করা বিশেষ করে জুনিয়র ডাক্তারদের (Junior Doctors) মধ্যে ক্লান্তি, মানসিক অবসাদ (Mental Fatigue) এবং কাজ থেকে বিচ্ছিন্নতার (Alienation) অনুভূতি বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে যা উদ্বেগ (Anxiety) ও অবসাদগ্রস্ততার (Depression) দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণ উচ্চ ডাক্তার-রোগী অনুপাত (Doctor-Patient Ratio), অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ (Administrative Tasks), নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ (Workplace Safety) এবং রোগীর সঙ্গে সময়ের অভাব।
ফোর্টিস হাসপাতাল, ফরিদাবাদের (Faridabad) নিউরোলজিস্ট (Neurologist) ডাঃ বিনীত বাঙ্গা (Dr Vinit Banga) যোগ করেছেন, শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্য পরিষেবার বৈষম্য (Urban-Rural Disparity) এই চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
সমাধানের পথও স্পষ্ট—কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ (Duty Hours Regulation), অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ (Recruitment), পরিকাঠামো উন্নয়ন (Infrastructure) এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা (Mental Health Support) নিশ্চিত করা।
বার্তা পরিষ্কার—ডাক্তারদের সুরক্ষা ও সুস্থতা নিশ্চিত না হলে কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এড়ানো যাবে না ঝুঁকিও।