উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

শেষ আপডেট: 3 February 2026 23:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মণিপুরে বিজেপির বিধানসভার দলনেতা (BJP legislature party leader Manipur) হিসেবে নির্বাচিত হলেন ইউমনাম খেমচন্দ সিং (Yumnam Khemchand Singh)। ফলে এটা একপ্রকার স্পষ্ট, খুব তাড়াতাড়ি তিনিই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন।
এদিকে, রাজ্যে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একজন মহিলা প্রার্থীর নাম উঠে আসছে। জোর জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর, কুকি নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী নেমচা কিপজেন (Nemcha Kipgen) এই পদের অন্যতম দাবিদার, জানিয়েছে সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থা।
উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের (Manipur President’s Rule) মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। দিল্লিতে মণিপুরের বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। একই দিনে মণিপুরে এনডিএ জোটের শরিক দলগুলিও বৈঠক বসে।
সোমবার বিজেপির পার্লামেন্টারি বোর্ড মণিপুর বিধানসভার দলনেতা নির্বাচনের জন্য তরুণ চুঘকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে।
এক বিজেপি নেতা আগেই জানিয়েছিলেন, রবিবারই সব বিধায়কদের সোমবার দিল্লিতে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছিল। ৩৭ জন বিধায়কই দিল্লিতে যান। বৈঠকটি সোমবার সন্ধ্যায় হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়ে ঘোষণার পর জানানো হয়, বৈঠক পিছিয়ে গিয়েছে। পরিবর্তীত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল ৩টেয় হবে।
গত রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং নিশ্চিত করেছিলেন, মণিপুরে এনডিএ-র সমস্ত শরিক দলকে জাতীয় রাজধানীতে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন,
“সব এনডিএ শরিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতিবাচক সাড়া মিলবে বলেই আশা করছি। সরকার একটি চলমান প্রক্রিয়া। মণিপুরের পরিস্থিতি বদলাতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
গত বছর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন এন বীরেন সিং। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে মণিপুরে প্রেসিডেন্টস রুল জারি হয়।
কুকি-জো এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত উত্তেজনার জেরে মাসের পর মাস ছড়ানো হিংসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
গত বছর অগস্টে সংসদে প্রেসিডেন্টস রুলের মেয়াদ আরও ছ’মাস বাড়ানো হয়। পাশাপাশি, মণিপুরে জাতিগত হিংসা নিয়ে তদন্তকারী তিন সদস্যের কমিশনের মেয়াদও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বাড়িয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিল হিন্দুস্তান টাইমস।
৪ জুন ২০২৩ সালে গঠিত এই তদন্ত কমিশনকে ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।