রবিবার সকালে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়েন ওমর। কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানানোর পর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘গতকাল আমাকে আটকানো হয়েছিল। আজ কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পড়ি।"

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 14 July 2025 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহিদ দিবস উপলক্ষে জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu Kashmir) রাজনীতি তুঙ্গে। ১৩ জুলাই ১৯৩১-এ ডোগরা শাসক হরি সিংহের বাহিনীর গুলিতে নিহত ২২ জন কাশ্মীরিকে শ্রদ্ধা জানাতে রবিবার সকালে আচমকাই ‘মাজার-এ-শুহাদা’ পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা (Omar Abdulla)। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে গাড়ি থামিয়ে দেয়াল টপকে তিনি কবরস্থানে ঢোকেন এবং শহিদদের উদ্দেশে ফাতেহা পাঠ করেন।
গত শনিবার ওই কবরস্থানে যাওয়ার অনুমতি পাননি ওমর এবং বিরোধী নেতারা। গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল তাঁদের। দিল্লি থেকে ফেরার পর ওমর বলেছিলেন, ‘‘ঘরে তালা মেরে রাখা হয়েছে আমাকে।’’
রবিবার সকালে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়েন ওমর। কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানানোর পর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘গতকাল আমাকে আটকানো হয়েছিল। আজ কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পড়ি। নওহাট্টা চকে গাড়ি থামিয়ে দিতেই আমাদের বাধা দেয় পুলিশ। আমাদের পতাকা ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়, হেনস্থা করা হয়। কিন্তু আমরা থামিনি। আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা নাকি স্বাধীন দেশ! তাহলে কীভাবে আমাদের আটকানো হয়? গতকালের নিষেধাজ্ঞা আজ কেন? আইন কী বলে?’’ এই প্রশ্ন তুলে নিরাপত্তা বাহিনীর দিকেই তির ছুড়েছেন তিনি।
ন্যাশনাল কনফারেন্স দাবি করেছে, ১৩ জুলাই যেন আবার সরকারি ছুটির স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। বরং পালটে দেওয়া হয়েছে ছুটির দিনগুলিও। এখন হরি সিংহের জন্মদিন সরকারি ছুটি হলেও বাদ দেওয়া হয়েছে শেখ আবদুল্লার জন্মদিন ও ১৩ জুলাইয়ের মতো ঐতিহাসিক দিন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী যখন ‘দিল কি দুরি’ কমানোর কথা বলেন, তখন শহিদদের স্মরণে যাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। এই শহিদরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন— তাঁরা আমাদের গর্ব।’’
লোকসভার প্রাক্তন সদস্য সাজাদ লোন বলেন, ‘‘আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার কেন বারবার কাশ্মীরের ইতিহাস মুছে দিতে চায়, তা বোধগম্য নয়। যাঁরা রক্ত দিয়ে ইতিহাস লিখেছেন, তাঁদের মুছে ফেলা যায় না।’’
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট হল, ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই, দেশদ্রোহের অভিযোগে আটক কাশ্মীরি নেতা আব্দুল কাদিরের মুক্তির দাবিতে শ্রীনগর জেল চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। সেই বিক্ষোভে গুলি চালায় মহারাজার বাহিনী। প্রাণ হারান ২২ জন। এই ঘটনাই পরবর্তীকালে জম্মু-কাশ্মীরে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সূচনা ঘটায়।
২০১৯ সালের পর জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চরিত্র আমূল বদলে গিয়েছে। শহিদদের স্মরণে সরকারি অনুষ্ঠান বন্ধ, রাজ্যের নেতাদের গৃহবন্দি করা— এই পরিবর্তন ঘিরে উপত্যকায় চাপা ক্ষোভ দানা বাঁধছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
What is wrong in visiting the graveyard of martyrs? This is not only unfortunate, it also snatches the democratic right of a citizen. What happened this morning to an elected Chief Minister @OmarAbdullah is unacceptable. Shocking. Shameful.
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) July 14, 2025
ওমর আবদুল্লার এ দিনের পদক্ষেপে সেই ক্ষোভ যেন ফের একবার প্রকাশ্যে এল। বস্তুত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, "একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে শহিদদের কবরস্থানে যেতে বাধা দেওয়া শুধু দুর্ভাগ্যজনকই নয়, তা এক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার নামান্তর।” তিনি আরও বলেন, “আজকের ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য। একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এরকম ব্যবহার গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”