চর্বি ও চিনি-ঘন খাবারের প্রতি ক্রমবর্ধমান আসক্তি রুখতে অভিনব পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

এআই দ্বারা নির্মিত ছবি
শেষ আপডেট: 14 July 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চর্বি ও চিনি-ঘন খাবারের প্রতি ক্রমবর্ধমান আসক্তি রুখতে অভিনব পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। নাগপুরের অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এ শুরু হয়েছে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচার। এখন থেকে জনপ্রিয় স্ন্যাক্স যেমন সিঙাড়া (Samosa), চপ, জিলিপি( Jilapi / Jalebi), পাকোড়া, বড়াপাও এবং চায়ের বিস্কুটের পাশেই দেখা যাবে ধূমপানের প্যাকেটের মতো স্বাস্থ্য সতর্কতা (Statutory warning)।
এই সতর্কবার্তাগুলিতে স্পষ্টভাবে জানানো থাকবে—এইসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত তেল, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
নাগপুর থেকে শুরু
নাগপুরের এইমস ক্যাম্পাসে থাকা ক্যাফেটেরিয়া ও পাবলিক ফুড কোর্টে এখন থেকে উজ্জ্বল রঙের ও স্পষ্ট লেখায় সতর্কবার্তা লাগানো থাকবে প্রতিটি ফুড কাউন্টারে। এতে লেখা থাকবে চর্বি, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা এবং সেগুলো নিয়মিত খেলে কী ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কেন এই উদ্যোগ?
ভারতে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো লাইফস্টাইল রোগ বা অসুখের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। The Lancet-এর এক গবেষণা অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ৪৪ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত হতে পারেন। এই প্রেক্ষিতে সরকারের লক্ষ্য—সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে, এবং তা শুরু করতে হবে খাবার প্লেট থেকে।
নিষেধাজ্ঞা নয়, মাত্রাজ্ঞানেই জোর
সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে—সিঙাড়া বা জিলিপি নিষিদ্ধ হচ্ছে না। এগুলো আগের মতোই বিক্রি হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে পারেন তাঁরা কী খাচ্ছেন এবং কতটা, সেইজন্যই এই সতর্কবার্তা।
এই উদ্যোগ খুব শিগগিরই দেশের অন্যান্য শহর ও প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়বে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষদের আশা—এই ছোট ছোট বার্তাগুলিই একদিন দেশের খাদ্যাভ্যাসে বড় রকমের পরিবর্তন আনবে।