পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক হয়ে ওঠে যে, চরম আতঙ্কে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে ট্রেনের শৌচালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন, যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনও সাহায্য এসে পৌঁছয়।

শেষ আপডেট: 14 December 2025 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একাই সফর করছিলেন এমন এক মহিলা যাত্রী (solo woman traveller)। সব ঠিক ছিল, তবে বিহারের কাটিহার জংশনে (Katihar Junction) ট্রেন থামার পর মুহূর্তের মধ্যেই বদলে গেল পরিস্থিতি। হঠাৎ করে তাঁর কোচে ঢুকে পড়ে ৩০–৪০ জন তরুণ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক হয়ে ওঠে যে, চরম আতঙ্কে (woman safety train) শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে ট্রেনের শৌচালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন (woman trapped train toilet Bihar), যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনও সাহায্য এসে পৌঁছয়।
এক্স-এ নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে ওই মহিলা জানান, ট্রেনটি কাটিহার জংশনে থামার সময় তাঁর কোচে আচমকা চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ঠিক সেই সময় তিনি শৌচালয়ে ছিলেন এবং বাইরে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখনই হঠাৎ করে ৩০–৪০ জন যুবক কোচে ঢুকে পড়ে, দরজার সামনে ভিড় করে দাঁড়ায়।
মহিলার কথায়, ভিড়ের চাপ এতটাই ছিল যে তিনি শৌচালয়ের দরজা পুরোপুরি খুলতেও পারেননি। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ফের দরজা বন্ধ করে দেন। সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে হেল্পলাইন ১৩৯-এ ফোন করেন।
“সেই মুহূর্তে বুঝেছি কেন ভ্রমণে নিরাপত্তা নিয়ে এত ভয়”
নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, “আজ বুঝলাম কেন ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা নিয়ে এত উদ্বেগ কাজ করে। আমি একাই সফরে বেরিয়েছিলাম। আমার ট্রেন কাটিহার জংশনে থামতেই আচমকা ৩০–৪০ জন তরুণ কোচে ঢুকে পড়ে - চিৎকার করতে করতে, একে অপরকে ধাক্কা দিতে দিতে।”
ওই মহিলা শৌচালয়ের ভিতর থেকেই একটি ভিডিও রেকর্ড করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দরজার ঠিক বাইরে কীভাবে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে লোকজন। তিনি লেখেন,
“আমি শৌচালয়ে ছিলাম, বাইরে বেরোনোর কোনও জায়গাই ছিল না। দরজার সামনে মানুষ গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে। তাই আবার দরজা বন্ধ করি, রেলওয়ে হেল্পলাইনে ফোন করি। সৌভাগ্যবশত, কিছুক্ষণের মধ্যেই RPF এসে পৌঁছয়।”
Today I understood why safety concerns during travel feel so real.
I was travelling alone and my train stopped at Katihar Junction(Bihar). Suddenly 30–40 young men rushed into the coach, shouting and pushing each other.
I was in the washroom and couldn’t even step out-people were… pic.twitter.com/2N5KMNgOuh— Potato!🚩 (@Avoid_potato) December 10, 2025
সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
মহিলার এই পোস্ট সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। একা মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা, ট্রেন ও ব্যস্ত স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ - এই সব প্রশ্ন ফের উঠে এসেছে।
অনেকেই মহিলার উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন এবং সময়মতো হস্তক্ষেপ করার জন্য রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF)-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আবার অনেকে রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “ভারতে মহিলাদের নিরাপত্তা একটা রসিকতা, বিশেষ করে উত্তর ভারতে। সবচেয়ে খারাপ বিষয়, ট্রেনে বিনা টিকিটের লোক উঠে পড়ে এবং অন্যদের সমস্যায় ফেলে।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “এটা সত্যিই ভয়ের অভিজ্ঞতা। এমন ভিড় হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কোনও জায়গা নেই, কোনও ধারণা নেই সামনে কী হতে পারে। শৌচালয়ের ভিতরে আটকে পড়া অবস্থাটা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।”
আরও এক ব্যবহারকারীর পরামর্শ, “রেল ব্যবস্থার বড় সংস্কার দরকার। স্টেশনের এন্ট্রি গেট থেকেই শুরু হোক। বৈধ টিকিট বা এন্ট্রি পাস ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়। পরীক্ষার্থী, দৈনিক শ্রমিক, চাকরিজীবীদের জন্য আলাদা ও সস্তা ট্রেন চালানো দরকার।”
এই ঘটনার পর ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠছে ভারতের ট্রেনে একা মহিলা যাত্রী কতটা নিরাপদ? আর সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেল কতটা প্রস্তুত?