পাঞ্জাবের অন্যতম বন্যাকবলিত জেলা গুরদাসপুর। ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবের ২৩টি জেলাকেই 'বন্যাপীড়িত' ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে জলস্তর এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে চারপাশের সমস্ত জমি তলিয়ে যায়।

বন্যায় ভেসে মৃত্যু মহিলার
শেষ আপডেট: 5 September 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কবলে পাঞ্জাব (Punjab Flood Situation)। ঘরছাড়া রাজ্যের কয়েক হাজার মানুষ। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্যোগে সামনে এল আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা। জলের তোরে ভেসে গেলেন এক মহিলা। প্রাণপণ চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
জানা গেছে, মৃতার নাম কালভিন্দর কৌর। গুরুদ্বারা থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, 'ওই সময় জল এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে সাহায্য করা সম্ভব হয়নি।' কালভিন্দরের ভাই হরমিত সিং জানিয়েছেন, 'বন্যার জল থেকে বাঁচার জন্য গতরাতেই দিদি গুরুদ্বারায় গিয়েছিলেন। আজ সকালে যখন তিনি বাড়ি ফিরছিলেন, হঠাৎ পিছলে গিয়ে জলে ভেসে যান। কয়েকজন শ্রমিক তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেননি। দিদিকে বাঁচানো যায়নি।'
এক প্রতিবেশী জানান, 'আমরা ছাদে ছিলাম। তখন হঠাৎ তাঁর চিৎকার শুনতে পাই। তিনি উঠতে গিয়েও আবার পিছলে পড়লেন এবং বন্যার জলে ভেসে যান। কিছুটা দূরে দুই ব্যক্তি তাঁকে টেনে আনতে সক্ষম হন এবং ট্রাক্টরের সাহায্যে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।'
পাঞ্জাবের অন্যতম বন্যাকবলিত জেলা গুরদাসপুর। ইতিমধ্যেই পাঞ্জাবের ২৩টি জেলাকেই 'বন্যাপীড়িত' ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে জলস্তর এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে চারপাশের সমস্ত জমি তলিয়ে যায়। প্রচুর ফসল ও গবাদিপশু ভেসে গেছে, ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকারি হিসেবে, রাজ্যের ২৩ জেলার প্রায় ১ হাজার ৬৯৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩.৮ লক্ষ। ব্যাপক ত্রাণকাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকমভাবে সাহায্য এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।