সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেম থেকে বিয়ে ও পরে খুন। কঙ্কাল উদ্ধার হতেই বেরিয়ে এল হাড়হিম তথ্য।

মৃত যুবক (বাঁদিকে), প্রেমিক ও তরুণী (ডানদিকে)
শেষ আপডেট: 12 February 2026 14:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেম, তার পরে বিয়ে। কিন্তু ছ’মাসের মধ্যেই সেই সম্পর্কের পরিণতি হল ভয়াবহ। মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) দেওরি শহরে নিখোঁজ এক যুবকের হত্যার ঘটনা সামনে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাগর (Sagar) জেলায়। পরিবারের অভিযোগ আর আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল—বাড়ির পিছনের সেপটিক ট্যাঙ্ক (Septic Tank) থেকেই মিলল খুলি-সহ দেহাবশেষ।
২২ বছরের প্রিন্স বাল্মিকী (Prince Balmiki) গত ২০ অগস্ট নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী তুলসী (Tulsi) অভিযোগ জানানোর পরও তদন্তে কিছু পাওয়া যায়নি। কিন্তু পরিবারের জোরালো দাবি—এটা নিছক নিখোঁজ নয়। সেই সন্দেহকেই ভিত্তি করে পুলিশ ফের তদন্তে নামে।মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে গ্রেফতার হয় মূল অভিযুক্ত শোয়েব (Shoaib)।
পুলিশের দাবি, জেরা করতে গিয়ে শোয়েব স্বীকার করে নেয়—ড্রাগের (Drug) নেশা ও প্রেমঘটিত দ্বন্দ্ব থেকে সে খুন করেছে প্রিন্সকে। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রিন্স ও তুলসীর বিয়ে হওয়ার আগে শোয়েবের সঙ্গে তুলসীর সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরেও সেই সম্পর্ক গোপনে চলত। সংসারে অশান্তি বেড়ে যাওয়ায় বিয়ের এক মাসের মধ্যে প্রিন্স-তুলসী চলে আসে দেওরিতে, শ্বশুরবাড়িতে থাকতে।
পুলিশ বলছে, দেওরিতে থাকার সময়ই শোয়েব বন্ধুত্ব করে প্রিন্সের সঙ্গে। নিজে নেশাগ্রস্ত থাকলেও ধীরে ধীরে প্রিন্সকেও স্ম্যাকের নেশায় টেনে নেয়। নেশার আড়ালে তুলসীর সঙ্গে গোপনে দেখা করত শোয়েব। প্রিন্স বিষয়টা টের পেয়ে আপত্তি জানাতেই সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে।
তদন্তকারী অফিসার ইন্সপেক্টর হরিরাম মানকার (Inspector Hariram Mankar) জানিয়েছেন, ২০ অগস্ট শোয়েব নেশা করার পর খুন করে প্রিন্সকে। পরে নিজের বাড়ির পিছনে সেপটিক ট্যাঙ্কে দেহ ফেলে ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ঢেকে দেয়। প্রায় এক মাস ধরে জায়গাটা নজরে রেখে নোনা ছড়াত শোয়েব, যাতে দেহ দ্রুত পচে যায়।
পরে শোয়েবকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে সেপটিক ট্যাঙ্ক খুঁড়ে উদ্ধার হয় খুলি-সহ হাড়গোড়। পরিচয় নিশ্চিত করতে পাঠানো হয়েছে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষায়।
খুনের পর শোয়েব তুলসীকে নিয়ে গুজরাতে (Gujarat) পালিয়ে যায়। দু’জনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। সেই সূত্র ধরে ও মোবাইলের তথ্যের ভিত্তিতে নার্সিংহপুর (Narsinghpur) থেকে গ্রেফতার করা হয় শোয়েবকে।
প্রিন্সের পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই ওঁরা মনে করেছিলেন এটা নিখোঁজ নয়, খুন। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আরও জেরা চলছে, অন্য কেউ জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত আদালতে তোলা হবে অভিযুক্তকে।