বিহারে এনডিএ-র মধ্যে মতপার্থক্য ও নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনার মধ্যে শাহের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দাবি করেছেন, এইবারের নির্বাচনে এনডিএ আগের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবে।

নীতীশ কুমার ও অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 17 October 2025 00:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা (Bihar Election) ভোটের আগে জোরদার হচ্ছে জল্পনা। এনডিএ জোট জিতলে মুখ্যমন্ত্রী (Bihar CM) হবেন কি নীতীশ কুমারই (Nitish Kumar)? বৃহস্পতিবার সেই জল্পনাতেই কার্যত ইতি টানলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। স্পষ্ট জানালেন, “এই নির্বাচনে এনডিএ (NDA) লড়ছে নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে। ভোটের পর সব শরিক মিলে সিদ্ধান্ত নেবে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন।”
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ বলেন, “নীতীশজি-ই এখন আমাদের নেতা। ভোটের পর সবাই একসঙ্গে বসে নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমি একা এ ব্যাপারে কিছু বলার মানুষ নই।”
বিহারে এনডিএ-র মধ্যে মতপার্থক্য ও নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনার মধ্যে শাহের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি দাবি করেছেন, এইবারের নির্বাচনে এনডিএ আগের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবে। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরের একটি ঘটনার কথাও প্রকাশ্যে আনেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, “সেই সময় নীতীশ কুমার নিজেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছিলেন, বিজেপিরই মুখ্যমন্ত্রী হওয়া উচিত, কারণ বিজেপি-র আসন বেশি ছিল। কিন্তু আমরা জোটের মর্যাদা রেখেছিলাম। নীতীশজিকে তাঁর অভিজ্ঞতা ও সিনিয়রিটির জন্যই মুখ্যমন্ত্রী করা হয়।”
নীতীশ কুমারের দলবদলের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ বলেন, “নীতীশজি আসলে কখনও কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন না। মোটে দুই-আড়াই বছরের সম্পর্ক ছিল। তাঁর রাজনীতি শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সালের জে পি আন্দোলন থেকে, যা ছিল ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেসবিরোধী আন্দোলনের জন্মভূমি।”
বিরোধীরা যেভাবে নীতীশ কুমারের ‘স্বাস্থ্যহানি’ ও ‘অস্থির আচরণ’-এর কথা বলছে, সে প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “আমি বহুবার তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি, কখনও এমন কিছু লক্ষ্য করিনি। বয়সজনিত কিছু সমস্যা স্বাভাবিক, কিন্তু রাজ্য চালাচ্ছে শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, তাঁর টিমও।”
সাক্ষাৎকারে মহাগঠবন্ধনের উপরেও তীব্র আক্রমণ শানান অমিত শাহ। তাঁর কথায়, “বিহারের মানুষ লালুপ্রসাদের শাসন দেখেছে। তারা আর সেই দিন দেখতে চায় না, সময় যতই পালটাক না কেন।” একইসঙ্গে কংগ্রেসকেও কটাক্ষ করতে ভোলেননি তিনি। বলেন, “কংগ্রেস সব সময় শরিকদের ছোট করে দেখে। বিহার থেকে শুরু করে বাংলা, এই ঔদ্ধত্যই আজ কংগ্রেসকে ছোট করে ফেলেছে।”