চিকিৎসক প্রথমে বুঝতেই পারেননি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার জালে ফেঁসে গিয়েছেন তিনি। ভয় আর মানসিক চাপে পড়ে একে একে নিজের ব্যাঙ্ক থেকে মোট ৩৫টি বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন।

শেষ আপডেট: 29 July 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আপনার মোবাইলে আপত্তিকর কনটেন্ট পাওয়া গিয়েছে। ফোন নম্বর কেটে দেব, মানি লন্ডারিং-এর মামলাতেও ফাঁসানো হবে।' গুজরাতের গান্ধীনগরের এক চিকিৎসকের কাছে কিছুদিন আগে আসে এমন ফোন। সেখান থেকেই তাঁর জীবনে সর্বনাশের শুরু। তিন মাসে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর জেরে নিজের জমানো ১৯ কোটি টাকা খোয়ালেন ব্যক্তি।
ঘটনার সূত্রপাত ১৫ মার্চ। ফোন করেছিলেন এক ব্যক্তি, নিজেকে কোনও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর একের পর এক কলে হাজির হলেন 'সাব-ইন্সপেক্টর', 'পাবলিক প্রসিকিউটর' সেজে আরও প্রতারক। প্রত্যেকেই ভয় দেখাতে থাকেন মানি লন্ডারিং, কোর্ট-কাচারি, পুলিশি হেনস্থার, এমনকি ফোনে নজরদারির হুমকি দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, চিকিৎসককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে টাকা হাতানো।
চিকিৎসক প্রথমে বুঝতেই পারেননি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার জালে ফেঁসে গিয়েছেন তিনি। ভয় আর মানসিক চাপে পড়ে একে একে নিজের ব্যাঙ্ক থেকে মোট ৩৫টি বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, তাঁর সোনার গয়নাও বন্ধক রেখে ঋণ তুলে সেই টাকাও পাঠিয়ে দেন প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে।
মাথা ঘোরানো এই প্রতারণা এখানেই শেষ হয়নি। চিকিৎসককে বাধ্য করা হয়েছিল বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ভিডিও কলে লোকেশন জানাতে। বলা হয়েছিল, তিনি ‘ডিজিটালি গ্রেফতার’। যেন এক বাস্তবের ‘সাইবার জেল।’ তিন মাস ধরে এই চাপ চলতে থাকে। হঠাৎ একদিন সব ফোন বন্ধ। কোনও যোগাযোগ নেই। তখনই ওই মহিলা চিকিৎসক বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
১৫ জুলাই সাইবার অপরাধ দফতরে অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নামে গুজরাত CID-এর সাইবার শাখা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভারতে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ প্রতারণার এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ঘটনা। একা এক জনের কাছ থেকে এত বিপুল টাকা হাতানোর ঘটনা বিরল।
তদন্তে নেমে পুলিশ সুরাত থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার অ্যাকাউন্টে এখনও ১ কোটি টাকা জমা ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের আরও তথ্য মিলতে পারে বলে আশাবাদী তারা। মূলচক্রীদের চিহ্নিত করতে চলছে তল্লাশি। বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ওই কোটি টাকা। সেগুলি খুঁজে বার করছে তদন্তকারীরা।
সাইবার ক্রাইম এবং মানসিক বিপর্যয়, প্রতারণার এই নতুন ছক নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা প্রশাসন।