হর্ষবর্ধন নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘ওয়েস্টার্কটিকা’র ‘ব্যারন’ হিসেবে। কূটনৈতিক নম্বরপ্লেট লাগানো রাজকীয় গাড়িতে যাতায়াত করতেন।

সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 23 July 2025 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'টি বিলাসবহুল ফ্লোর, রাজকীয় গাড়ি, রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ছবি, ভুয়ো পাসপোর্ট আর প্রচুর বিদেশি মুদ্রা, এই সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘ওয়েস্টার্কটিকা’র দূতাবাস। জায়গা উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ। এই চমকে দেওয়ার দূতাবাস আদতে ভুঁয়ো। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল ইউপি পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)।
ধৃতের নাম হর্ষবর্ধন জৈন। এসটিএফ সূত্রে খবর, তিনি গাজিয়াবাদের একটি প্রাসাদোপম বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেটিকে বানিয়ে ফেলেছিলেন ‘ওয়েস্টার্কটিকা’র দূতাবাস। আন্তর্জাতিক মানচিত্রে যার কোনও স্বীকৃতি নেই। এমনকি এই তথাকথিত দেশের নাম অনেকেই শোনেননি। অভিযোগ, সেই নামেই চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষকে প্রতারণা করেছেন জৈন। সঙ্গে চলত হাওয়ালার চক্রও।
হর্ষবর্ধন নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘ওয়েস্টার্কটিকা’র ‘ব্যারন’ হিসেবে। কূটনৈতিক নম্বরপ্লেট লাগানো রাজকীয় গাড়িতে যাতায়াত করতেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা যায়। ২০১১ সালেই তাঁর বিরুদ্ধে একটি স্যাটেলাইট ফোন অবৈধভাবে রাখার অভিযোগ উঠেছিল।
এসটিএফ জানিয়েছে, হর্ষবর্ধনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে কূটনৈতিক নম্বরপ্লেট লাগানো ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি, ১২টি তথাকথিত মাইক্রোনেশনের ‘কূটনৈতিক পাসপোর্ট’, বিদেশ মন্ত্রকের নকল সিল ও ৩৪টি দেশের নকল স্ট্যাম্প, নগদ ৪৪ লক্ষ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা, ১৮টি ভুয়ো কূটনৈতিক নম্বরপ্লেট।
এসটিএফের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ সুশীল ঘুলে বলেন, 'হর্ষবর্ধন নিজেকে মাইক্রোনেশন ‘ওয়েস্টার্কটিকা’র রাষ্ট্রদূত বলে পরিচয় দিতেন। সেই পরিচয়ে সমাজের প্রভাবশালী মহলে ঢুকতে চাইতেন। আমরা তদন্তে জানতে পেরেছি, তিনি বিদেশে চাকরি দেওয়ার নাম করে মানুষকে ঠকিয়েছেন বহু এবং হাওয়ালা চক্রের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।'
‘ওয়েস্টার্কটিকা’ আসলে একটি ‘মাইক্রোনেশন’, ২০০১ সালে আমেরিকার নৌসেনার প্রাক্তন অফিসার ট্র্যাভিস ম্যাকহেনরি এটি তৈরি করেন। আন্টার্কটিকার এক বিশাল অংশকে নিজের দেশের দাবি করে তিনি নিজেকে ‘গ্র্যান্ড ডিউক’ ঘোষণা করেন। এই দেশের জনসংখ্যা নাকি ২,৩৫৬ মাত্র। যদিও কেউই সেখানে থাকেন না। ক্যালিফোর্নিয়ায় অফিস চালিয়ে তারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে বলে দাবি। রয়েছে নিজস্ব পতাকা, মুদ্রা, এমনকি উপাধিও দেয় তারা, যার কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই।
ঘটনার কয়েক দিন আগেই ওয়েস্টার্কটিকা’র অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে পোস্ট হয় যে, 'নয়াদিল্লির কনসুলেট' ২০১৭ সাল থেকে চালাচ্ছেন ‘ব্যারন এইচ ভি জৈন’। তাতে গাজিয়াবাদের ওই বিল্ডিং ও স্থানীয় বাসিন্দাদের খাওয়ানোর বর্ণনাও ছিল।
এসটিএফ ইতিমধ্যেই হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে ভুঁয়ো নথি বানানো ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা রুজু করেছে। তদন্তে উঠে আসছে আরও নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের অনুমান, এমন নকল কূটনৈতিক পরিচয়ে অনেক দূর পর্যন্ত প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিলেন এই ব্যক্তি।
ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জাতীয় স্তরে। এক ‘অস্তিত্বহীন’ দেশের নামে এত বড় জালিয়াতি, সেই সঙ্গেই উচ্চপর্যায়ের পরিচয়ের অপব্যবহার, তদন্তের অগ্রগতি এখন সবার নজরে।