গার্হস্থ্য হিংসা আইনে বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়ি ছেলেকে পরিত্যাজ্য করলেও শ্বশুরবাড়িতে থাকার অধিকার থাকে স্ত্রীর।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 18 October 2025 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পর স্ত্রী যে শ্বশুরবাড়িতে এসে ওঠেন, সেটাই তাঁর যৌথ পরিবার। গার্হস্থ্য হিংসা আইনে বাবা-মা বা শ্বশুর-শাশুড়ি ছেলেকে পরিত্যাজ্য করলেও শ্বশুরবাড়িতে থাকার অধিকার থাকে স্ত্রীর। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব নারুলার পর্যবেক্ষণ, বিয়ের পর যে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বাড়িতে এসে কোনও মহিলা, তখন সেটাই তাঁর ঘর এবং সেই সূত্রে ওই পরিবারেরই অংশ তিনি।
একজন স্ত্রী ও তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ির মধ্যে মামলায় আদালত বলে, আবেদনকারিণী স্ত্রীর ২০১০ সালের ১৪ নভেম্বর বিয়ে হয়েছিল। তিনি বিয়ের অব্যবহিত পরেই এসে ওঠেন স্বামী-শ্বশুরের ঘরে। সেই অর্থে তিনি যে বাড়িতে এসে উঠেছিলেন সেটাই তাঁর যৌথ গার্হস্থ্য সম্পর্কের অংশ। কিন্তু, সেই সম্পর্কে চিড় ধরলেও আইনের বিভিন্ন ধারায় কোনও দলিলে নাম না থাকলেও বসবাসের অধিকার এবং তাঁকে উচ্ছেদের কোনও অধিকার দেওয়া নেই।
মহিলার স্বামীকে ২০১১ সালে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ত্যাজ্য করেন। তা সত্ত্বেও এই যৌথ পরিবারের চরিত্র লঙ্ঘন হয় না, ওই স্ত্রীর ক্ষেত্রে। উল্লেখ্য, দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ২০১০ সালে। বৈবাহিক মতপার্থক্যের কারণে স্বামী ও স্ত্রী ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। দম্পতি আদালতের দরজায় আসার আগেই শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁদের ছেলেকে পরিত্যজ্য করেন এবং সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন।
স্ত্রীর অভিযোগ, ঘরে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, স্বামী ও তাঁর বাবা-মা মহিলার জিনিসপত্র একটি ভাড়া ঘরে সরিয়ে ফেলছেন। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ওই মহিলা গার্হস্থ্য হিংসা আইনে মামলা দায়ের করেন স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এর পাল্টা মহিলার শাশুড়ি একটি অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই দিল্লি হাইকোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে।