নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত হয় নোনাবিনাকেরে থানায়। তল্লাশি চালাতে গিয়ে মৃতের ঘরে লঙ্কার গুঁড়ো এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পায় পুলিশ।

শঙ্করমূর্তি ও সুমঙ্গলা
শেষ আপডেট: 29 June 2025 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী যেন আর বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। তাই প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করলেন স্ত্রী। কর্নাটকের তুমকুর জেলায় এই খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, ওই মহিলা প্রতিবেশী যুবকের প্রেমে পড়েন। সেই সম্পর্কে পথের কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন স্বামী। বাধা সরাতে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করলেন তিনি। প্রমাণ লোপাট করতে দেহ বস্তায় ভরে ফেলে দিলেন ৩০ কিলোমিটার দূরে।
তুমকুর জেলার টিপটুর তালুকের কদশেট্টিহল্লি গ্রামের ঘটনা। পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত শঙ্করমূর্তি (৫০) একা থাকতেন একটি ফার্মহাউসে। তাঁর স্ত্রী সুমঙ্গলা টিপটুরের কল্পতরু গার্লস হস্টেলে রাঁধুনির কাজ করতেন। অভিযোগ, সেখানকারই কারাদলুসন্তে গ্রামের বাসিন্দা নাগরাজুর সঙ্গে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
পুলিশ জানাচ্ছে, স্বামী শংকরমূর্তি এই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলতে খুনের ছক কষেন সুমঙ্গলা ও তাঁর প্রেমিক। ২৪ জুন রাতে স্বামীর চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছুড়ে দেন সুমঙ্গলা, তারপর লাঠি দিয়ে মারধর করে গলায় পা চেপে ধরে খুন করেন। সঙ্গে ছিলেন নাগরাজুও।
খুনের পর মৃতদেহ একটি বস্তায় ভরে গাড়িতে করে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি ফার্মহাউসের কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। জায়গাটি দুর্গম হওয়ার কারণে প্রথমে কারও সন্দেহ হয়নি।
নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত হয় নোনাবিনাকেরে থানায়। তল্লাশি চালাতে গিয়ে মৃতের ঘরে লঙ্কার গুঁড়ো এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পায় পুলিশ। সেখান থেকেই সন্দেহ বাড়ে। এরপর সুমঙ্গলার মোবাইলের কল ডিটেল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার রাতে প্রেমিক নাগরাজুর সঙ্গে ঘন ঘন কথা হয়েছে তাঁর।
জিজ্ঞাসাবাদে শেষমেশ নিজের অপরাধ কবুল করেন সুমঙ্গলা। পুলিশ তাঁকে ও নাগরাজুকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে দেহটি। ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের হয়েছে নোনাবিনাকেরে থানায়। চলছে তদন্ত।
এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা বলছেন, 'একটা সম্পর্কের জন্য কীভাবে কেউ এমনটা করতে পারে! বিশ্বাসই হচ্ছে না।'
এই ঘটনা নতুন হয়। এমন অনেক ঘটনা সম্প্রতি হয়েছে। মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে খুন থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে খুন, চোখে আঙুল দিয়ে বার বার দেখিয়ে দিচ্ছে কতোটা তিক্ত সম্পর্ক হলে এমন নৃশংসতা ফুটে উঠতে পারে।