বিহার বিধানসভা ভোটের আগে ‘সিগমা অ্যান্ড কোম্পানি’ গ্যাংয়ের কুখ্যাত পান্ডা রঞ্জন পাঠক সহ ৪ জনকে এনকাউন্টারে খতম করেছে দিল্লি ও বিহার পুলিশের যৌথ দল।

গ্যাংয়ের দাবি ছিল, তারা অর্থ রোজগারের জন্য খুন-জখম করে না।
শেষ আপডেট: 23 October 2025 11:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা ভোটের আগে ‘সিগমা অ্যান্ড কোম্পানি’ গ্যাংয়ের কুখ্যাত পান্ডা রঞ্জন পাঠক সহ ৪ জনকে এনকাউন্টারে খতম করেছে দিল্লি ও বিহার পুলিশের যৌথ দল। বুধ ও বৃহস্পতির মাঝরাতে দিল্লির রোহিনী এলাকায় চারজনের সঙ্গে এনকাউন্টার শুরু হয় পুলিশের। তাতেই নিকেশ হয় রঞ্জন পাঠক (২৫), মণীশ পাঠক (৩৩), বিমলেশ মাহাত ওরফে বিমলেশ সাহনি (২৫) ও আমন ঠাকুর (২১)।
এই চারজনের বিরুদ্ধেই বিহারে একাধিক খুন, তোলাবাজি, সশস্ত্র হামলা, অপহরণের অভিযোগ ছিল। ব্রহ্মশ্রী সেনার জেলা প্রধান গণেশ শর্মা, মদন শর্মা ও আদিত্য সিং খুনের মতো বড়সড় ব্যক্তিত্বকে খুনের অভিযোগ ছিল তাদের ঘাড়ে। এই গ্যাংয়ের একটি প্রচলিত ধর্ম ছিল, এরা বলেকয়ে খুন করত। আগে অপরাধ জগতের খবর লেখা সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রচারপত্র বিলি করত বা পাঠিয়ে দিত রঞ্জন পাঠকের সিগমা কোম্পানি।
গ্যাংয়ের দাবি ছিল, তারা অর্থ রোজগারের জন্য খুন-জখম করে না। আমলাতন্ত্রের ভুল নীতি, পুলিশের অত্যাচার এবং গরিব-দুর্বলদের উপর শোষণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদ জানায়। তাদের আরও দাবি, এই গ্যাংয়ের লড়াই কোনও জাত, সম্প্রদায় অথবা ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। তারা আইনকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে, আর সে কারণেই সমাজে বঞ্চিতদের অধিকার রক্ষায় ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবে।
বিহারের সীতামড়ি জেলায় জন্ম রঞ্জন পাঠকের বয়স মাত্র ২৫ বছর। সিগমা অ্যান্ড কোম্পানি নামে তার দল গোটা বিহারেই কুখ্যাত। সীতামড়ি জেলাতেই মূলত তার গ্যাং দাপিয়ে বেড়াত। তবে ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এমনকী নেপাল সীমান্তেও তার কার্যাবলি ছড়িয়ে ছিল। মাত্র ২৫ বছরের মধ্যেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লোককে খুন করে সে নাম কামায়। এবং কিছুদিনের মধ্যেই এলাকার ত্রাস হিসেবে দেখা দেয়।
পাঠকের নেতৃত্বে গড়ে তোলা এই গ্যাং অসংখ্য খুন, তোলাবাজি, অপহরণ, ভাড়াটে খুন এবং অবৈধ অস্ত্র পাচারে যুক্ত ছিল। আদিত্য সিংকে বাজপাত্তিতে খুনের পর রঞ্জনের গ্যাং স্থানীয় এক পঞ্চায়েত প্রধান রানিদেবীর দেওর মদন কুশওয়াকে গুলি করে খুন করে। তারপরই ব্রহ্মশ্রী সেনার প্রধানকে তার দলের লোকেরা হত্যা করেছিল। এই খুনের দায়িত্ব স্বীকার করেছিল রঞ্জন মিডিয়াকে ডেকে। এবং তাদের কাছে প্রচারপত্র পাঠিয়েছিল। সেই চিঠিতে তার দলের নাম রেখেছিল সিগমা অ্যান্ড কোম্পানি।
এই চিঠিতে রঞ্জন পাঠকের দাবি ছিল, পুলিশ হচ্ছে অত্যন্ত বদ চরিত্রের। দুর্নীতিতে ভরা এবং দুর্বল ও গরিবের শত্রু। পুলিশ নোংরা রাজনীতির শিকার, নৃশংস জাত রাজনীতিতে ছেয়ে রয়েছে গোটা ব্যবস্থা এবং সমাজবিরোধীতে ভর্তি। ঘুষ নেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তার জীবন দুঃসহ করে তোলায় তাকে এই পথ বেছে নিতে হয়েছে।