শমা আদতে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। তিন বছর ধরে ভাইয়ের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে থাকছিলেন তিনি। কোনও চাকরি করতেন না তরুণী।

শমা পারভিন
শেষ আপডেট: 30 July 2025 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাত অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS) বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছে শমা পারভিন (Shama Parveen) নামের এক তরুণীকে। আল কায়দার (Al-Qaeda) ভারতীয় শাখার এক শীর্ষ সদস্য সে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মূলত সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সন্ত্রাসের বার্তা ছড়াচ্ছিলেন পারভিন।
গত ২৩ জুলাই আল কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে চারজন যুবককে আটক করেছিল এটিএস। ধৃতদের নাম মহম্মদ ফারদিন, সেফুল্লা কুরেশি, জিশান আলি এবং মহম্মদ ফাইকের। গুজরাত, দিল্লি এবং নয়ডা থেকে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। সেই গ্রেফতারির পরই বুধবার পাকড়াও করা হয়েছে শমা পারভিনকে।
কে এই তরুণী
বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) মনোরমাপাল্যা এলাকা থেকে গ্রেফতার হলেও শমা আদতে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) বাসিন্দা। তিন বছর ধরে ভাইয়ের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে থাকছিলেন তিনি। কোনও চাকরি করতেন না তরুণী। অধিকাংশ সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকতেন। ইতিমধ্যে জানা গেছে, পারভিনের দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে তার ১০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার।
শমার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে মৌলবাদী প্রচার-ভিডিয়ো ও বার্তা পোস্ট করতেন তিনি। একই সঙ্গে, নেটমাধ্যমেই বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এমনকী, ভারতের নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ছক কষার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সূত্রের খবর, গুজরাত ATS যে চার যুবককে গ্রেফতার করেছে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল শমার। তাঁদের মাধ্যমেই ওই তরুণীর গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হয় তদন্তকারীরা।
বাড়ি থেকে শমাকে গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে গুজরাতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি মেলে। ধৃতদের কাছ থেকে মিলেছে জঙ্গি মতাদর্শ সংক্রান্ত নানা বইপত্র, এমনকী 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে আল কায়দার দৃষ্টিভঙ্গিও নথিবদ্ধ ছিল ফরদিনের কাছে।
তদন্তকারীদের দাবি, শমা পারভিনই মূল ষড়যন্ত্রকারী। এখন তাঁর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থসাহায্য ও সংগঠনগত ভূমিকা খতিয়ে দেখছে ATS। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তার মতো আরও অনেকে ভারতে সক্রিয় রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।