Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ

কেসিআরের উত্তরসূরি কে? দাদা-বোনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ফাটল তেলেঙ্গানার ‘কে’ পরিবার

দলের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে জেরবার তেলেঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারত রাষ্ট্র সমিতির সভাপতি কে চন্দ্রশেখর রাও

কেসিআরের উত্তরসূরি কে? দাদা-বোনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ফাটল তেলেঙ্গানার ‘কে’ পরিবার

শেষ আপডেট: 16 May 2025 11:24

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর বিধানসভা ভোটে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার আগে লোকসভা ভোটে ভরাডুবির ধাক্কায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। এখন দলের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে জেরবার তেলেঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারত রাষ্ট্র সমিতির সভাপতি কে চন্দ্রশেখর রাও (President of Bharat Rashtra Samilty K Chandrasekhar Rao) ।

বয়সজনিত অসুখবিসুখ তো আছেই তার উপর একের পর এক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের জেরে ভারত রাষ্ট্র সমিতি তথা একদা তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (Telengyana Rashtra Samity) প্রতিষ্ঠাতা কেসিআর (KCR) একপ্রকার রাজনৈতিক সন্ন্যাসে চলে গিয়েছেন। দলের রাশ এখন ছেলে তথা কার্যনির্বাহী সভাপতি কেটিআরের হাতে (Working President of BRS KTR)। তাঁকে এবার পুরোদস্তুর সভাপতি করার চেষ্টা শুরু হতে পথে নেমেছেন কেটিআর কন্যা কে কবিতা (K Kavita, daughter of KCR)। বিধান পরিষদের সদস্য কবিতা দিল্লির মদ কেলেঙ্কারির মামলায় প্রায় এক বছর তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন। সেই সুযোগে দাদা কেটিআর দলের রাশ পুরোপুরি নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছেন, বুঝেই রাজ্য সফরে নেমেছেন কবিতা।

তাতেই চটেছেন কেটিআর। তিনি প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছেন কবিতার কর্মসূচি তাঁর ব্যক্তিগত। পাল্টা কবিতার বক্তব্য, ওবিসি এবং মহিলাদের জন্য ৪০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি বিআরএসের জাতীয় কর্মসমিতিতে গৃহীত প্রস্তাব। তিনি দলের হয়েই রাজ্য সফর করছেন। প্রসঙ্গত, দিল্লির আবগারি মামলায় জেলে যাওয়ার আগে কবিতা রাজধানীতেও একই দাবিতে অনশন আন্দোলন করেন। বিজেপি বিরোধী দলগুলি তাঁর পাশে দাঁড়ায় তখন।

তেলেঙ্গানা তথা সাবেক অখণ্ড অন্ধ্রপ্রদেশে রাজনৈতিক পরিবারে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নতুন নয়। কেসিআরের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল এনটি রামারাওয়ের তেলুগু দেশম পার্টির (Telugu Desham party)  হাত ধরে। রামারাওয়ের মৃত্যুর আগেই সেই দলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয় তাঁর স্ত্রী এবং বড় জামাইয়ের মধ্যে। শেষে বড় জামাই কে চন্দ্রবাবু নাইডু (K Chandrababu Naidu) টিডিপি-কে হাইজ্যাক করেন। আর অধূনা অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াইএসআর কংগ্রেসে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডির সঙ্গে তাঁর মা ও বোনের বিরোধের জেরে বহু বছর তাঁদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। জগন মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে একাধিকবার তাঁর বোনকে পুলিশ গ্রেফতার করে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে।

একই অসুখে আক্রান্ত বিআরএস-ও। দলের সাবেক মন্ত্রীদের অনেকেই সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, কেসিআরের উচিত সর্ব ভারতীয় সভাপতির পদটি রেখে রাজ্যের ভার পুরোপুরি কেটিআরের হাতে দেওয়া। আমরা কেটিআরের নেতৃত্বে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি একজন যোগ্য নেতা।

প্রসঙ্গত, কেসিআরের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন কেটিআর। সেই সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুচ্ছ অভিযোগ থাকলেও কেটিআরের দিকে আঙুল তেমন ওঠেনি। দলকে জেতানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এখন তাঁকে এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে বেঁকে বসেছেন বোন কবিতা। সব মিলিয়ে তেলেঙ্গানার রাজনীতির ‘কে’ পরিবারে এখন অশান্তি চরমে।

কেসিআরের ছেলে কেটিআর এবং মেয়ে কবিতার রাজনীতিতে হাতেখড়ি নতুন নয়। দু’দশকের বেশি দু’জনের বারার ছত্রছায়ায় রাজনীতি করছেন। কিন্তু দাদা-বোনের সম্পর্ক কখনই রাহুল-প্রিয়ঙ্কার মতো নয়। এমনকী কবিতাকে মাঠে-ময়দানের রাজনীতি থেকে আটকাতে তাঁকে বিধানসভায় টিকিট না দেওয়ার পিছনে দাদার হাত ছিল বলে দলের অন্দরের খবর। বাধ্য হয়ে কেসিআর মেয়েকে বিধান পরিষদের সদস্য করেন। দীর্ঘ সময় তিনি ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে চলতেন। পরিস্থিতি বদলে যান কবিতার নাম দিল্লির মদ কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর পর। কবিতার অনুগামীদের বক্তব্য, ওই মামলায় দল তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। ব্যক্তিগতভাবে আইনি লড়াই করে জামিন আদায় করে রাজনীতির ময়দানে ফিরে এসেছেন।


```