সোপোরের আচাবল গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ নিসার ১৯৯১ সালে জিএমসি শ্রীনগর থেকে এমবিবিএস এবং ২০০১ সালে শের-ই-কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস থেকে এমডি পাশ করেন।

ডাঃ নিসার উল হাসান
শেষ আপডেট: 15 November 2025 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফরিদাবাদের জঙ্গি চক্র (Faridabad Terror Module) ও লালকেল্লা বিস্ফোরণ-মামলায় (Red Fort Blast) যুক্ত ‘হোয়াইট-কলার’ জইশ-ই-মহম্মদ মডিউলের (JeM Module) তদন্তে ফের সামনে এলেন কাশ্মীরের আলোচিত চিকিৎসক ডাঃ নিসার উল হাসানের (Dr. Nisar Ul Hassan) নাম। শ্রীনগরের এসএমএইচএস হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক এই চিকিৎসক বহুদিন ধরেই প্রশাসনের নজরে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে জম্মু–কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) লেফটেন্যান্ট গভর্নর প্রশাসন সংবিধানের ৩১১(২)(সি) ধারায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত (Suspend) করে। মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শ ও অতীতের মন্তব্য ঘিরে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘বিতর্কিত কণ্ঠ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল।
সোপোরের আচাবল গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ নিসার ১৯৯১ সালে জিএমসি (JMC) শ্রীনগর থেকে এমবিবিএস (MBBS) এবং ২০০১ সালে শের-ই-কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস থেকে এমডি পাশ (MD) করেন। চিকিৎসা জগতের পাশাপাশি তাঁর নানা মন্তব্য ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ঝোঁক - এমন ধারণা নিরাপত্তা মহলে বহুদিন ধরেই সন্দেহের জন্ম দিয়েছিল। কয়েক বছর আগে তাঁকে ‘টিকিং টাইম বম্ব’ (Ticking Time Bomb) বলেও উল্লেখ করেছিলেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
এসএমএইচএস-এ সহকারী অধ্যাপক থাকা অবস্থায় চিকিৎসকদের সংগঠন ডিএকে–এর সভাপতি হিসেবে ডাঃ নিসারের ভূমিকা তাঁকে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এই সময়েই বারবার শাসকদলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে তাঁর নাম।
২০১৩ সালে জাল ও নিম্নমানের ওষুধ কাণ্ডে তিনি ধর্মঘটের ডাক দেন। রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ক্ষোভ চরমে ওঠে, রাজনৈতিক রংও চড়ে যায়, কারণ হুরিয়ত-সহ একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছিল।
২০১৪ সালে ওমর আবদুল্লার সরকার (Omar Abdullah) তাঁকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করে। অভিযোগ ছিল, সরকারকর্মীদের ভোটদানে বাধা দিতে ও কর প্রদান বন্ধ করতে উসকানি দেওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন তিনি। টানা চার বছর সাসপেনশনে থাকার পর ২০১৮ সালে, রাজ্যে গভর্নর শাসন জারি থাকাকালীন, তাঁকে পুনর্বহাল করা হয়।
২০১৮–২০২৩ সময়কালে স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত মন্তব্য ছাড়া প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু বলেননি ডাঃ নিসার। তবে তাঁর আগের রাজনৈতিক অবস্থান, বক্তব্য ও অভিযোগিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ঝোঁক পুনরায় সামনে আসে ২০২৩ সালে এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি হারান। প্রশাসনের মতে, তাঁর মতাদর্শই তাঁকে অত্যন্ত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ করে তুলেছিল।
বর্তমানে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Al Falah University) মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছিলেন ডাঃ নিসার। এখানেই তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডাঃ মহম্মদ উমর নবি - যাঁকে তদন্তকারী সংস্থাগুলি লালকেল্লা বিস্ফোরণ ষড়যন্ত্রের অন্যতম মাথা বলে সন্দেহ করছে। উমর নবী প্রায় এক বছর তাঁর তত্ত্বাবধানে কাজ করেছিলেন। তদন্তকারীরা সেই সম্পর্কের প্রকৃতি ও যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে, সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডাঃ নিসারের স্ত্রী ডাঃ সুরাইয়া জানিয়েছেন, উমর নবির সঙ্গে তাঁর স্বামীর সম্পর্ক কোনও দিনই মধুর ছিল। তিনি অভিযোগ করেন - নবি চিকিৎসায় অনিয়মিত ছিলেন, রোগী দেখতেন না, ক্লাস নিতেন না; যার ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে অন্য ওয়ার্ডে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ডাঃ নিসার ‘পালিয়ে বেড়াচ্ছেন’ - এমন খবরও ভুল। তাঁর দাবি, তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনআইএ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রকেও তদন্তের স্বার্থে ডাকা হয়েছে।