৪৯ বছরের শিবদীপ লাঁড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল’। মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২০.৪ কোটি টাকা, দায় ২.৭ কোটি।

শিবদীপ ডব্লিউ লাঁড়ে
শেষ আপডেট: 15 November 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে (Bihar Elections 2025) বড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার শিবদীপ ডব্লিউ লাঁড়ে (Shivdeep W Lande)। পুলিশ থাকাকালীন ‘বিহারের সিংহম’ (Bihar Singham) নামে জনপ্রিয় এই আধিকারিক প্রথমবার রাজনৈতিক ময়দানে নামলেও আরারিয়া ও জামালপুর - দু’টি কেন্দ্রেই ব্যর্থ (Defeat in Two Seats) হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। প্রচারে জোরদার উপস্থিতি থাকলেও ভোটবাক্সে তা প্রতিফলিত হয়নি।
জামালপুরে শুরু থেকেই নজর ছিল লাঁড়ের লড়াইয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন জেডিইউ প্রার্থী (JDU Candidate) নচিকেত মণ্ডল। তিনি ৯৬ হাজার ৬৮৩ ভোট পেয়ে আইআইপি প্রার্থী নরেন্দ্র কুমারকে ৩৬ হাজার ২২৮ ভোটে হারান। চর্চার কেন্দ্রে থাকলেও শিবদীপ লাঁড়ে ভোটের অঙ্কে পিছিয়েই গেছেন।
আরারিয়ার ফলও একই ছবি তুলে ধরেছে। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী (Congress Candidate) আবিদুর রহমান ৯১ হাজার ৫২৯ ভোট পেয়ে জেডিইউ প্রার্থী শগুফতা আজিমকে ১২ হাজার ৭৪১ ভোটে পরাজিত করেন। দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক জমি না থাকায় লাঁড়ে প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
৪৯ বছরের শিবদীপ লাঁড়ে (Shivdeep W Lande) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল’। মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২০.৪ কোটি টাকা, দায় ২.৭ কোটি। কঠোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশজীবনে জনপ্রিয়তা পেলেও ভোটের লড়াইয়ে তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এদিকে রাজ্যের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছে এনডিএ (NDA)। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় তারা ২০০-র গণ্ডি পেরিয়ে কার্যত ঝড় তুলেছে। শুক্রবার প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে এনডিএ পেয়েছে ২০২টি আসন, মহাগঠবন্ধন থেমে গেছে মাত্র ৩৫-এ। শুরু থেকেই যে বাড়তি সুবিধা ছিল, শেষ পর্যন্ত তা একতরফা সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছে যায়।
সন্ধেয় দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলেন, বিকশিত বিহারের জন্য এই ভোট। উন্নয়নের জন্য এই ভোট। এই কাট্টা সরকার (Katta Sarkar) আর আসবে না। বিহারের জনতার কাছে যে আর্জি করেছিলাম, তা ওঁরা মেনেছেন। তাঁর সংযোজন, বিহার দেশের ওইসব রাজ্যের মধ্যে রয়েছে যেখানে যুবসমাজ সবচয়ে বেশি। তারাই বিরোধীদের জঙ্গলরাজকে সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দিয়েছে।
মোদীর কড়া বার্তা, এত বড় জয় নিশ্চিত করেছে - বিহারে কাট্টা সরকার আর আসবে না! তিনি বলেন, 'লোহা লোহে কো কাটতা হ্যায়'! বিহারে কিছু দল তোষণ করতে নতুন ফর্মুলা বানিয়েছিল। কিন্তু আজকের এই জয় সব ভেঙে দিয়েছে। মহিলা এবং যুবসমাজের পক্ষে হয়েছে এই ভোট। নরেন্দ্র মোদী এও বলেন, আজ শুধু এনডিএ-র জয় হয়নি, ভারতের গণতন্ত্রের জয় হয়েছে, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তার জয় হয়েছে।