
বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধই বা কী, যার ফলে হতে পারে মৃত্যুদণ্ড? গ্রাফিক্স-শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 11 June 2025 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীকে খুনে অভিযুক্ত তাঁর নববিবাহিত স্ত্রী সোনম। ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মেঘালয় পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধান জানিয়েছেন, ধারাল অস্ত্র দিয়ে রাজার মাথার সামনে এবং পিছনে দুবার সজোরে আঘাত করা হয়েছিল। মৃত্যু নিশ্চিত ও দেহ লোপাট করার উদ্দেশ্যে পাহাড়ের গভীর খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল রাজাকে। এখন আদালতে এই শিউরে ওঠা খুনের বিচার চলতে থাকবে। কিন্তু, সবথেকে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এই নৃশংস খুনের ঘটনায় ২৪ বছরের তরুণী স্ত্রী সোনমের কি ফাঁসির সাজা হতে পারে? আইন বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে কী বলছেন? অতীতেই বা খুনের ঘটনায় হাইকোর্ট কিংবা সুপ্রিম কোর্টে কী সাজা ঘোষণা হয়েছিল? বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধই বা কী, যার ফলে হতে পারে মৃত্যুদণ্ড?
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অনিলকুমার সিং শ্রীনেত নবভারত টাইমকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সাধারণত ফাঁসির সাজা হয়ে থাকে ধর্ষণের পর খুন, গণহত্যা, সন্ত্রাসবাদী কাজ, অপহরণ করে খুন এবং দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ। কারণ এইসব ঘটনা সমাজের বৃহত্তর অংশকে প্রভাবিত করে।
১৯৮০ সালে বেচান সিং বনাম পাঞ্জাব সরকারের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের কয়েকটি রূপরেখা বেঁধে দিয়েছিল। পরে সর্বোচ্চ আদালত বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধ বিবেচনার জন্য কয়েকটি নির্দেশিকা তৈরি করে দেয়। সেই হিসেবে ফাঁসির সাজা হয়ে থাকে কেবলমাত্র সেই ঘটনাগুলিতে, যেগুলিতে অস্বাভাবিক নৃশংসতা, নিষ্ঠুরতা অথবা সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়ে যায়।
ওই মামলাতেই সুপ্রিম কোর্ট এও জানায়, যখন অপরাধীর জন্য আর কোনও সাজা যথোপযুক্ত মনে হচ্ছে না বলে প্রমাণ হয়, যেমন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা এমন কিছু তখনই এই সাজার কথা ভাবা যেতে পারে। অনিল সিং শ্রীনেতের মতে, রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডেও অতি পরিকল্পিত ছক কষা হয়েছিল। তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ধারাল অস্ত্র দিয়ে মাথায় দুবার কোপানো হয়। এবং খাদে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে কোনও অবস্থাতেই তিনি বেঁচে থাকতে না পারেন। এই খুনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটা শুধু নৃশংসই নয়, সমাজের বিবেককে আমূল নাড়া দিয়েছে। ফলে আদালতের মনে হলে এবং সাক্ষ্য-বয়ানে প্রমাণিত হলে একে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে মনে করতে পারেন বিচারকরা।
আইনজীবী বলেন, এই জাতীয় অপরাধ হল মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে মোটামুটি প্রামাণ্য আদর্শ। শুধুমাত্র বেনজির নৃশংসতা, হিংসা, খুনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রেই বিবেচ্য হয়ে থাকে। যেমন-
অপরাধের নিষ্ঠুরতা- কত নৃশংস-নিষ্ঠুরভাবে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার মূল্যায়ন।
অপরাধের ধরন- অপরাধ কীভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং সমাজে তার প্রভাবের মূল্যায়ন।
অপরাধীর অতীত- অপরাধী এর আগে এই ধরনের বা অন্য কোনও ধরনের অপরাধ করে সাজা খেটেছিল কিনা, শাস্তি দিলে তার মধ্যে চরিত্র সংশোধনের কোনও সম্ভাবনা আছে কিনা তা বিচার করা।
সমাজে এই অপরাধের প্রভাব- সমাজে এই ধরনের অপরাধের কী প্রভাব পড়তে তা বিচার্য বিষয়ে থাকে।
অন্য বিকল্প শাস্তির পথ যেখানে বন্ধ- বিচারকদের বিবেচনায় থাকে যে, অপরাধীকে অন্য কোনও শাস্তি দেওয়া যায় কিনা। যেমন যাবজ্জীবন দেওয়া যায় কিনা।
শীর্ষ আদালতের আইনজীবী অনিলকুমার সিং শ্রীনেত বলেন, রাজা রঘুবংশীকে খুনের আগে আরজি কর কাণ্ডের অপরাধকে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে মনে করেনি দায়রা আদালত। রায়ে আদালত বলেছিল, নৃশংস অপরাধ। ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় মৃত্যুর সাজা দেওয়া হয় অপরাধ যখন ব্যতিক্রমী নৃশংস ঘটনা হয় এবং সমাজের বিবেকবুদ্ধিকে ঝাঁকিয়ে দিয়ে থাকে। আদালত আরও বলেছিল, চোখের বদলে চোখ এবং প্রাণের বদলে জীবন নেওয়ার চিন্তাভাবনার ঊর্ধ্বে ওঠার সময় এসেছে।