দিল্লি বিমানবন্দরে ‘কাদু’ ও ‘ঢোলু’ নামের পথকুকুর নিখোঁজ ও নির্যাতনের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে কর্তৃপক্ষ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 April 2026 23:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ 'কাদু' এবং 'ঢোলু' নামের দুটি পথকুকুরের (Delhi airport dogs) নিখোঁজ হওয়া এবং তাদের সঙ্গে হওয়া অমানবিক আচরণের ভিডিও ঘিরে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। পশুপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, প্রত্যেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। শান্ত ও নির্বিষ কুকুরদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দিল্লি বিমানবন্দর এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে (Kadu Dholu)।
বিতর্কের মূলে রয়েছে ‘কাদু’ নামের একটি বয়স্ক কুকুর এবং ‘ঢোলু’ (বা ব্রাউনি) নামের অন্য একটি কুকুর। অভিযোগ উঠেছে যে, গত ২৬ মার্চ থেকে কাদু নিখোঁজ। পশুপ্রেমীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে সাফাই কর্মীরা তাকে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রিয়ংশী নামে এক পশু অধিকার কর্মী এক্স (X) হ্যান্ডেলে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও কামড়ানোর ঘটনা না ঘটলেও কেন শান্ত কুকুরগুলোকে সরিয়ে দেওয়া হলো? অন্য এক ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ি থেকে নামানোর সময় কুকুরগুলো দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে, যা থেকে মনে করা হচ্ছে তাদের অ্যানেস্থেশিয়া বা ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী, বন্ধ্যাকরণ ও টিকাকরণের পর কোনও পথকুকুরকে তার নিজের এলাকাতেই ফিরিয়ে দিতে হয়। পশুপ্রেমীদের দাবি, কাদু ও ঢোলু দুজনেই বন্ধ্যাকরণ ও টিকাকরণ সম্পন্ন করা শান্ত প্রকৃতির কুকুর ছিল। তাদের জোরপূর্বক স্থানান্তর করা কেবল অনৈতিক নয়, আইনিভাবেও দণ্ডনীয়। নেটিজেনদের একাংশ একে "অসহায় প্রাণীদের প্রতি নৃশংসতা" বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি দাবি করেছেন।
দিল্লি বিমানবন্দরের কুকুর নিখোঁজ হওয়া এবং তাদের সাথে হওয়া আচরণের অভিযোগের মুখে কর্তৃপক্ষ সমস্ত দাবিকে "ভিত্তিহীন" ও "বিভ্রান্তিকর" বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তারা সরকারি এবং ‘অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অফ ইন্ডিয়া’-র নির্দেশিকা মেনেই কুকুরদের নিয়মিত যত্ন, টিকাকরণ ও বন্ধ্যাকরণ নিশ্চিত করে। তবে একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে ধরে জানিয়েছে যে, গত তিন মাসে বিমানবন্দর এলাকায় ৩০টিরও বেশি কুকুর কামড়ানোর ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। একটি বাদামী রঙের কুকুর (যাকে অনেকে 'ঢোলু' বলে মনে করছেন) গত ৩০ ও ৩১ মার্চ দু’জন ব্যক্তিকে কামড়েছিল এবং যাত্রীদের তাড়া করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই কারণেই তাকে সাময়িকভাবে আটকে রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর পুনরায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বহুল চর্চিত ‘কাদু’ নামের কুকুরটির নিখোঁজ হওয়ার খবরটি তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই জানতে পেরেছে এবং সে নিরাপদ আছে বলে আশা প্রকাশ করেছে।
এই পুরো ঘটনাটি বর্তমানে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা সমাজমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করেছে। একদিকে একদল মানুষ বিমানবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং কুকুর কামড়ানোর ঘটনা রুখতে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, পশুপ্রেমী ও অধিকার কর্মীরা প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার এবং দেশের প্রচলিত প্রাণী কল্যাণ আইন কঠোরভাবে মেনে চলার দাবি জানিয়েছেন।