রাশিয়ার তেল আমদানি ইস্যু নিয়ে প্রশ্নে ব্রেন্দে জানান, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তিনি মনে করেন আগামী ৬ মাসের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 18 September 2025 07:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal) ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটতে চলেছে বলে আশ্বাস দিলেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রধান (World Economic Forum Chief) বর্জে ব্রেন্দে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত দুই মাসের অচলাবস্থা এখন অতীত। আলোচনার মাধ্যমে খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে।
ব্রেন্দের বক্তব্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) এশিয়ায় তাদের বাণিজ্য বৈচিত্র্য (Trade) আনতে চাইছে। সেই প্রেক্ষিতে ভারতের (India) বিশাল বাজার এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, “বর্তমান পরিস্থিতি আর দীর্ঘস্থায়ী হবে না। উভয় পক্ষই সমাধানের পথে এগোচ্ছে।”
রাশিয়ার তেল আমদানি (Russian Crude Oil) ইস্যু নিয়ে প্রশ্নে ব্রেন্দে জানান, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে তিনি মনে করেন আগামী ৬ মাসের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়ার তেল আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পক্ষপাতী নন তিনি। কারণ এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাবে বলেই আশঙ্কা।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের ৫০ শতাংশ শুল্ক (US Tariff) বসানোর পর থেকে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে প্রশমিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বার্তা বিনিময়ের পর সম্পর্ক আরও নরম হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, চিন (China) প্রসঙ্গে ব্রেন্দে বলেন, ভারত ও চিন বাণিজ্যে এগোলে তা বিশ্বের জন্য ইতিবাচক। তবে সীমান্ত সমস্যা সমাধান না হলে সেটি চিন্তার বিষয়। ভারতের কাছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অন্যতম চাবিকাঠি ‘রেয়ার আর্থ’ নিয়েও তিনি মত দেন। তাঁর কথায়, “রেয়ার আর্থ আসলে ততটা বিরল নয়, তবে তা এখনও পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় আসেনি।”
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সঙ্গে আসন্ন চুক্তিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন ব্রেন্দে। তাঁর মতে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক ব্লকের সঙ্গে ভারতের চুক্তি শুধু ভারতের জন্য নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও সমান জরুরি। চুক্তিটি বছরের শেষেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দিল্লিতে মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি (Assistant US Trade Representative) ব্রেন্ডান লিঞ্চ তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষ বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র জানান, দুই দেশের বাণিজ্য সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এই বৈঠক ছিল খুবই ইতিবাচক।
ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকও একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে। তাঁরা জানায়, দুই দেশের মধ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্বকে স্বীকার করে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই একটি সমান্তরাল জায়গায় পৌঁছানোর জন্য তাঁদের প্রচেষ্টা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।