বিশেষ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যা চলবে বছরভর। এদিন তিনি ‘বন্দে মাতরম’-এর এই ঐতিহাসিক রচনাকে স্মরণ করে বিশেষ স্মারক মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশ করেন।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 7 November 2025 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বন্দে মাতরম’-এর (Vande Mataram) ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার দিল্লিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) যা চলবে বছরভর। এদিন তিনি ‘বন্দে মাতরম’-এর এই ঐতিহাসিক রচনাকে স্মরণ করে বিশেষ স্মারক মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বন্দে মাতরম আমাদের একতার প্রতীক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। আজকের এই দিনটি দেশবাসীর মনে নতুন উদ্দীপনা জাগাবে। আমি সকল ভারতবাসীকে অভিনন্দন জানাই।” মোদী আরও বলেন, এই স্তোত্র ভারতের আত্মপরিচয়ের প্রকাশ - যে ভারত শত আঘাত সহ্য করেও আরও দৃঢ়, আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
“বন্দে মাতরম-এর মূল অনুভূতি হল ‘ভারত’। এক জাতি হিসেবে আমরা অতীতের প্রতিটি আঘাত সহ্য করেছি, এবং তাতেই আমাদের অমরত্ব লুকিয়ে আছে,” মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর এও সংযোজন, স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল এই গানের মধ্যে দিয়েই। আধুনিক ভারতের আত্মার প্রতীক হিসেবে এই গানকে স্মরণ করে মোদী জানান, এটি কেবল এক সুর নয়, বরং ভারতের ভাবধারার আদর্শ।
We mark 150 years of Vande Mataram, a song that has inspired generations to rise for the nation. Addressing a programme in Delhi. https://t.co/qQqjgmSXy5
— Narendra Modi (@narendramodi) November 7, 2025
১৮৭৫ সালে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ার বাড়িতে ‘বন্দে মাতরম’ লিখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chatterjee)। পরে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এটিকে জুড়ে দেন লেখক। ১৮৮২ সালে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় তা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। ক্রমে ক্রমে এটিই হয়ে ওঠে স্বাধীনতার মন্ত্র। এক সময়ে যখন ইংরেজদের বিরুদ্ধে উত্তাল দেশ, চারিদিকে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, সেই সময়ই এই ‘বন্দে মাতরম’ যেন ঘি-য়ের কাজ করেছিল। শুক্রবার যে বিশেষ অনুষ্ঠানের উদযাপন শুরু হয়েছে তা চলবে ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
এদিকে আজকের দিনেই ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি (BJP)। তাঁদের দাবি, জওহরলাল নেহরুর (Jwaharlal Nehru) কংগ্রেস এই গানটিকে নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। দলের জাতীয় মুখপাত্র সিআর কেসবন এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে অভিযোগ তুলেছেন, ১৯৩৭ সালে 'বন্দে মাতরম'-এর একটি অংশ মাত্র নেওয়া হয়েছিল। মা দুর্গাকে নিয়ে লেখা অংশগুলি ইচ্ছাকৃত ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর।
বিজেপির এও অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের রাগাতেই নাকি এই গান লেখা হয়েছিল বলে সুভাষচন্দ্র বসুকে লেখা এক চিঠিতে লিখেছিলেন নেহরু। এটা ঐতিহাসিক অপরাধ। গানটির জাতীয় গুরুত্ব নষ্ট করেছেন তিনি, এমনটাই বলছে বিজেপি।