Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
পয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়

অপরাধ আইনে ভয়ঙ্কর ধারাগুলি কী, রাজ্য সরকার কি সেগুলি এড়াতে পারে

১ জুলাই থেকে দেশে ফৌজদারি অপরাধের বিচারে নতুন তিন আইন চালু হয়েছে।

অপরাধ আইনে ভয়ঙ্কর ধারাগুলি কী, রাজ্য সরকার কি সেগুলি এড়াতে পারে

শেষ আপডেট: 18 July 2024 15:28

অমল সরকার

১ জুলাই থেকে দেশে ফৌজদারি অপরাধের বিচারে নতুন তিন আইন চালু হয়েছে। বাতিল হয়ে গিয়েছে ব্রিটিশ আমলের আইন। নতুন তিন আইনের একটি হল ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), যা ১ জুলাইয়ের আগে ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি (ইন্ডিয়ান পেনাল কোড) হিসাবে পরিচিত ছিল। 

বিএনএসের বেশ কিছু ধারা-উপধারা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। যাবতীয় আপত্তি, পরামর্শ পাশে ঠেলে নরেন্দ্র মোদীর সরকার সেটি ১ জুলাই থেকে চালু করে দিয়েছে। তার আগেই তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার একটি কমিটি গড়েছে। আইনের বিতর্কিত বিধানগুলি চিহ্নিত করতে ওই সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারও ঘোষণা করেছে, তারাও কমিটি গঠন করে আইনটি খতিয়ে দেখবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করার পর অবিজেপি শাসিত আরও রাজ্য একই পথে হাঁটবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনেও বিরোধীরা ওই আইনের নানা আপত্তিজনক দিক নিয়ে সরব হবে।  

বিএনএসের পাশাপাশু ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসি’র বদলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এবং এভিডেন্স অ্যাক্টের বদলে ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ) চালু হয়েছে দেশে। তাৎপর্যপূর্ণ হল আগের আইনগুলির মতো নয়া আইনের কোনও ইংরিজি অনুবাদ সরকারি নথিপত্রে নেই। আইনের হিন্দি নামই কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, অরুণাচল থেকে কেরল সর্বত্র ব্যবহৃত হবে। এইভাবে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে বেশ কিছু মহল। দক্ষিণের রাজ্যগুলির বহু নেতা-নেত্রী এই ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। 

কিন্তু মূল আপত্তি বিএনএস বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও বিএনএসএস বা ভারতীয় নাগরিত সুরক্ষা সংহিতার কয়েকটি ধারা-উপধারা নিয়ে। তার অন্যতম হল, বিএনএসএস ১৮৭ ধারা। ১ জুলাইয়ের আগে পর্যন্ত গ্রেপ্তারের পর আদালতের অনুমতি নিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ১৪ দিন নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারত। নয়া আইনে সেই মেয়াদ বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবধি পুলিশ হেফজাতে রাখার বিধান রাখা হয়েছে। 

সংবিধান ও আইনজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, এরফলে অভিযুক্তের প্রতি পুলিশের অনাচার, অত্যাচার করার সুযোগ আরও বেড়ে গেল। অভিযুক্তকে আরও বেশি অসহনীয় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হবে। কারণ, পুলিশ হেফাজত বা থানা লকআপগুলির অবস্থা অত্যন্ত নিম্নমানের। 

আর এক বিতর্কিত ও ভয়ঙ্কর ধারা হিসাবে আইনজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন বিএনএসএসের ৩৭ নম্বর ধারাটিকে। তাতে বলা হয়েছে তদন্ত চলাকালে বন্দি অভিযুক্ত সম্পর্কে পুলিশ ছবি-সহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারবে। আইনজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, এই ধারায় নাগরিকের মর্যাদাহানী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগের ব্রিটিশ আইনে ছিল পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্তের ৪৮ ঘণ্টা অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। নয়া আইনে সেই বিধান বদলে বাধ্যতামূলকের জায়গায় চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের উপর বিষয়টি ছেড়ে রাখা হয়েছে। এরফলে পুলিশের কথায় চিকিৎসকেরা অভিযুক্তের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গাফিলতি করতে পারে বলে ফৌজদারী মামলায় বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের অনেকের আশঙ্কা। 

আগের আইনে বলা ছিল, কাউকে গ্রেফতার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতের বিচারকের সামনে হাজির করতে হবে। সেই বিধানও এখন আর বাধ্যতামূলক নয়।

নয়া আইনে ইডির মতো পুলিশকেও তদন্ত চলাকালে অপরাধ-সূত্রে পাওয়া অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন পুলিশের হাতে এমন ক্ষমতার অপব্যবহার আটকানো কঠিন হতে পারে। 

নয়া আইনে বহু ক্ষেত্রে পুলিশকে এফআইআর না করারও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অপরাধের সাজা ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত হলে পুলিশ এফআইআর দায়ের করার আগে অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করে নিতে পারবে। অপরাধ হয়েছে বলে মনে করলে পুলিশ তবে এফআইআর দায়ের করবে। অর্থাৎ বহু ক্ষেত্রেই অপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত করা পুলিশের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। 

মনে করা হচ্ছে, নয়া অপরাধ আইন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উত্থাপিত আপত্তির দিকগুলি রাজ্য সরকার গঠিত কমিটি খতিয়ে দেখবে। প্রশ্ন হল, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার কি আইনের বিধান বদলাতে পারবে? জবাব হল, পারবে না।

বিষয়টি সংবিধানের যৌথ তালিকাভুক্ত হওয়ায় রাজ্য সরকারগুলি কোনও ধারা-উপধারার সংশোধন চেয়ে রাজ্য বিধানসভায় বিল পাশ করাতেই পারে। তবে তা মূল আইনে অর্ন্তভুক্ত হবে কি না তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর। কারণ, কেন্দ্রীয় আইন বা যৌথ তালিকাভুক্ত আইনের ধারা নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে বিবাদ বা সংঘাত হলে কেন্দ্রের আইনই বহাল থাকবে, বলা আছে সংবিধানে। 

তাহলে রাজ্য সরকারের কমিটি গঠন এবং তাদের সুপারিশ কি কোনও কাজে আসবে না? সংবিধান ও আইনজ্ঞদের মতে, আইন তিনটি কেন্দ্রীয় সরকারের হলেও আইন-শৃঙ্খলা যেহেতু রাজ্যের বিষয় তাই ধারা-উপধারাগুলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার পৃথক অবস্থান নিতেই পারে। ফৌজদারি মামলায় বিশেষজ্ঞ এক আইনজীবী বলেন, পুলিশ হেফাজতে অভিযুক্তকে আটকে রাখার বিধানটির কথাই ধরা যাক। আগের আইনে আদালতের সম্মতি সাপেক্ষে পুলিশ সর্বোচ্চ ১৪ দিন অভিযুক্তকে আটকে রাখতে পারত। নয়া আইনে তা ৯০ দিন করা হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার চাইলে পুলিশ-প্রশাসনকে নির্দেশ দিতে পারে, অভিযুক্তদের যেন ১৪ দিনের বেশি হেফাজতে না রাখা হয়। পুলিশ না চাইলে অভিযুক্তকে জামিন দিতে পারে অথবা বিচার বিভাগীয় হেফাজত বা জেলে পাঠিয়ে দিতে পারেন ম্যাজিস্ট্রেট। 

রাজ্য সরকার চাইলে তদন্ত চলাকালে বন্দি অভিযুক্তের ছবি প্রকাশেও পুলিশকে নিষেধ করতে পারে। কারণ, অভিযুক্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে নির্দোষ প্রমাণিত হতে পারেন। কিন্তু ছবি প্রকাশের ফলে সামাজিক মর্যাদাহানী হবে, যার ক্ষতিপূরণ সম্ভব হবে না। একইভাবে রাজ্য সরকার চাইলে ৪৮ ঘণ্টা অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধানও বহাল রাখতে পারে। তাতে কেন্দ্রীয় আইন অগ্রাহ্য করা হবে না। একইভাবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত না করার বিষয়েও রাজ্য সরকার নীতিগত অবস্থান নিতে পারে। তাতেও কেন্দ্র-রাজ্যের সংঘাতের কোনও সুযোগ নেই। আইনজ্ঞদের মতে, এগুলি রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। যেমন রাজনৈতিক বন্দিদের বিশেষ সুবিধাদান বা তাঁদের আগাম মুক্তির বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।


```