এই ঘটনার পর স্নেহার পরিবার এবং কয়েকজন বন্ধু অভিযোগ তুলেছেন, সিগনেচার ব্রিজে পর্যাপ্ত নজরদারি থাকলেও, ঘটনার সময় কোনও সিসিটিভি ক্যামেরাই কাজ করছিল না।

স্নেহা দেবনাথ (ছবি- সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 14 July 2025 07:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ'দিন নিখোঁজ থাকার পর মিলল ত্রিপুরার কলেজছাত্রীর দেহ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিলেন স্নেহা দেবনাথ। বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাবনে বলে বেরিয়ে আর ফেরেননি। ত্রিপুরার সাবরুমে থাকা পরিবার যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশে খবর দেন। হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও। অবশেষে যমুনা নদী থেকে মেলে তাঁর দেহ।
দিল্লির গীতা কলোনির একটি ফ্লাইওভারের কাছে ভাসমান অবস্থায় দেখা যায় তাঁর দেহ। উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানিয়েছে, স্নেহা একটি হ্যান্ডনোট রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, পড়াশোনা নিয়ে কোনও অশান্তি ছিল না, বরং মানসিক অস্থিরতা ছিল মূলত পারিবারিক কারণেই।
গত ৭ জুলাই উত্তর দিল্লির সিগনেচার ব্রিজ পর্যন্ত একটি ক্যাবে চড়ে গিয়েছিলেন ওই পড়ুয়া। তারপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। টেকনিক্যাল সার্ভিল্যান্সে পুলিশ তাঁর মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে জানায়, শেষ অবস্থান ছিল সিগনেচার ব্রিজই। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে, উত্তর দিল্লির মজনু কা টিলা থেকে কিছুটা নীচে, গীতা কলোনির কাছে নদীতে দেহ ভেসে ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাব চালকের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সময়রেখা পুনর্গঠন করা হয়েছে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, তাঁরা একটি মেয়েকে ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন, পরে তাঁকে দেখা যায়নি।
স্নেহার খোঁজে তল্লাশি অভিযানে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং দিল্লি পুলিশ। উত্তর দিল্লির নিগম বোধঘাট থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের নয়ডা পর্যন্ত এলাকায় শেষ কদিন লাগাতার খোঁজ চলে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ৭ জুলাই ভোরে স্নেহা তাঁর কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে ইমেল ও মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। বন্ধুরা পুলিশকে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরেই স্নেহা মানসিকভাবে খুবই অস্থির ছিলেন।
এই ঘটনার পর স্নেহার পরিবার এবং কয়েকজন বন্ধু অভিযোগ তুলেছেন, সিগনেচার ব্রিজে পর্যাপ্ত নজরদারি থাকলেও, ঘটনার সময় কোনও সিসিটিভি ক্যামেরাই কাজ করছিল না। তাঁদের মতে, যদি ক্যামেরাগুলি সচল থাকত, তাহলে হয়তো দ্রুত পদক্ষেপ করে তাঁকে উদ্ধার করা যেত।
এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ স্নেহার পরিবার। প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।