নির্বাচন কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা যা ২৪ জুন জারি করা হয়েছিল দেখা যায় তাতে ২০০৩ এর সংশোধিত নাগরিকত্বের বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

কমিশনার সান্ধুর ভিন্ন সুর!
শেষ আপডেট: 2 December 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্ক চলছে। রাজনৈতিক দলগুলি পাশাপাশি একাধিক নাগরিক সংগঠন নির্বাচন কমিশনের এই কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি তুলে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত গিয়েছে। শীর্ষ আদালতে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে জোর সবার করেছে কমিশন।
ইংরেজি দৈনিক 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, SIR নিয়ে শুরুতেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তিন নির্বাচন কমিশনারের (Election Commission) একজন সুখবীর সিং সান্ধু। কমিশনের এ সংক্রান্ত ফাইলে তিনি এই মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন, 'সত্যিকারের ভোটার/নাগরিকরা, বিশেষ করে বৃদ্ধ, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র এবং অন্যান্য দুর্বল গোষ্ঠী যাতে হয়রানি বোধ না করে এবং তাদের সুবিধা দেওয়া হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।'
এবছর ২৪ জানুয়ারি প্রথম বিহারে এসআইআর শুরু করতে নির্দেশ জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নথিপত্র বলছে ওই দিন সকালে খসড়া নির্দেশিকায় সান্ধু তাঁর এই সতর্কবার্তা নথিভুক্ত করেন।
তবে আশ্চর্যের হল এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) কোনরকম আলাপ-আলোচনা ছাড়াই চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট ফাইলে। এমনকী, কাজটি এতই দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছিল যে খসড়া নোটটি অফিসারদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মারফত বিলি করা হয়। বিকালে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন। তারপরই শুরু হয় দেশজুড়ে বিতর্ক। দেখা যায় বিরোধীরা আপত্তি তুলে সেই কথাগুলি বলছে যা কমিশনার সান্ধু তাঁর নোটে উল্লেখ করেছিলেন।
সান্ধুর সতর্কবার্তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় চূড়ান্ত নির্দেশিকায়। খসড়া নির্দেশিকাতে ২০০৩ সালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের উল্লেখ করে বলা হয়েছিল ওই আইনে নাগরিক বিবেচিত হবেন এমন ব্যক্তিরাই ভোটার তালিকায় নাম রাখার অধিকারী। বলা হয় যেহেতু ২০০৩ এরপর দেশে এসআই আর হয়নি SIR হয়নি, তাই ওই বছরটিকে ভিত্তি বর্ষ হিসাবে বিবেচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ এর সংশোধিত আইনে প্রথম 'বেআইনি অভিবাসী' শব্দ দুটি সংযুক্ত করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় তখন বিজেপি সরকার। এই সংশোধনী সংযুক্ত করেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবানি। তারপর থেকেই বিজেপি অনুপ্রবেশের ইস্যু নিয়ে নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তবে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা যা ২৪ জুন জারি করা হয়েছিল দেখা যায় তাতে ২০০৩ এর সংশোধিত নাগরিকত্বের বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। পরিবর্তে কমিশনের তরফে শুধু বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যেহেতু নাগরিক হওয়াটা বাধ্যতামূলক তাই, তাই কমিশন ১৯৫৫ সালের মূল নাগরিকত্ব আইনটিকে বিবেচনায় রেখে এসআইআর সম্পন্ন করবে।
২৪ জুনের চূড়ান্ত আদেশের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে, নির্বাচন কমিশন লিখে: 'যদিও, সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক পূর্ব শর্তগুলির মধ্যে একটি হল যে, ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধিত হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিক হওয়া আবশ্যক। ফলস্বরূপ, কমিশনের একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে যে কেবলমাত্র নাগরিক ব্যক্তিদেরই তা নিশ্চিত করা উচিত;'
লক্ষণীয় কমিশনের ফাইলে এই বাক্যটি সেমিকোলন দিয়ে শেষ হয়েছে। অর্থাৎ একটি অসম্পূর্ণ বাক্য রয়ে গিয়েছে কমিশনের ফাইলে। যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে এসআইআর নিয়ে তিন কমিশনারের অবস্থান অভিন্ন ছিল না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যখন দ্রুততার সঙ্গে এসআইআর শুরু করতে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন তখন আরেক কমিশনার সান্ধু ধীরে চলার বার্তা দেন।
কমিশনের ফাইলের নোট ফাঁস হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিই নয়, এসআইআর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে সতর্ক করেছিলেন এক কমিশনারও। বিষয়টি নিয়ে কমিশনের কর্তারা অবশ্য প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। এমনকী ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এই বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন কমিশনার সান্ধু।