দীর্ঘ শুনানির পর প্রজ্ঞা ঠাকুর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ শ্রীকান্ত পুরোহিত-সহ মোট সাতজনকে মালেগাঁও মামলায় বেকসুর খালাস করা হয়েছে।

প্রজ্ঞা সাধ্বী
শেষ আপডেট: 2 August 2025 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় (Malegaon Case) নিষ্কৃতি পেয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর (Pragya Thakur)। তাঁর দাবি, তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।
দীর্ঘ শুনানির পর প্রজ্ঞা ঠাকুর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ শ্রীকান্ত পুরোহিত-সহ মোট সাতজনকে মালেগাঁও মামলায় বেকসুর খালাস করা হয়েছে। এরপরেই সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে প্রজ্ঞা বলেন, “তদন্ত চলাকালীন আমাকে প্ররোচিত করা হয়েছিল যাতে আমি দেশের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলি। কিন্তু আমি তা করিনি।”
বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ আরও বক্তব্য, “যোগী আদিত্যনাথ, মোহন ভাগবত, ইন্দ্রেশ কুমার, রাম মাধব এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম বললেই আর মারব না — এই শর্ত দিয়েই দিনের পর দিন অত্যাচার চালানো হয়েছিল আমার ওপর।”
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রজ্ঞা বলেন, “আমার ফুসফুস সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গিয়েছিল। অবৈধভাবে হাসপাতালে আটক রাখা হয়েছিল আমাকে। শুধু মুখে এসব নাম বলানোর জন্য এমন নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আমি গুজরাতে থাকতাম বলে মোদীর নাম বলার জন্যও জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি মিথ্যে বলিনি, তাই কারও নাম বলিনি।”
প্রজ্ঞার এই বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন মামলার রায়েই একটি বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এক ‘ঘনিষ্ঠ সাক্ষী’, যে পরে সরকারপক্ষ থেকে সরে দাঁড়ায়, সে আদালতে দাবি করেছে — তাঁকে চাপ দিয়ে যোগী আদিত্যনাথ এবং আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত অন্তত চার জনের নাম বলাতে চাওয়া হয়েছিল।
প্রাক্তন এন্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস) আধিকারিক মহবুব মুজাওয়ার আদালতে দাবি করেছিলেন, “আমার ঊর্ধ্বতন কর্তারা চেয়েছিলেন আমি যেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে গ্রেফতার করি। আমি সেই নির্দেশ মানিনি।” যদিও আদালত তাঁর এই বক্তব্যকে মান্যতা দেয়নি।