আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক আকাশসীমা। এর মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো-সহ একাধিক সংস্থা, স্থগিত থাকছে পশ্চিমমুখী বহু উড়ান।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 February 2026 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়া (West Asia) জুড়ে তৈরি হয়েছে মারাত্মর অস্থিরতা। আরব দুনিয়ায় আক্রমণ শুরু করেছে ইজরায়েল-আমেরিকা। যাত্রী সুরক্ষায় এবার সেসব জায়গায় পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল ইন্ডিগো (IndiGo), এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস (Air India Express)। পাশাপাশি, উড়ান স্থগিত করল পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways)-ও।
শনিবার দুপুরে এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস (Air India Express) জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনায় সব পশ্চিমমুখী আন্তর্জাতিক উড়ান আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সংস্থার ভাষায়, অতিথি ও কর্মীদের নিরাপত্তাই (Safety & Security) তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই অপারেশন যে কোনও সময়ে পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা হতে পারে। সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের (Impacted Guests) সরাসরি যোগাযোগ করে জানানো হচ্ছে বিষয়টা। টিকিট বদল বা বাতিলের ক্ষেত্রে ওয়েভারও (Change/Cancellation Waiver) দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, নিজেদের যোগাযোগের তথ্য ঠিক রাখতে ও উড়ান সম্পর্কে জানতে সংস্থার সাইটে একটু ঘুরে আসতে।
এর আগে ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়াও পশ্চিম এশিয়াগামী উড়ান স্থগিত রেখেছে। ফলে দুবাই, দোহা, আবুধাবি, বাহরিন—সব গুরুত্বপূর্ণ রুটে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যত স্তব্ধ ভারতের আকাশপথ।
পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে কাতারের আকাশসীমা (Qatar Airspace) বন্ধের ঘোষণা হওয়ার পর। ঠিক তার পরই সমস্ত উড়ান স্থগিত করে কাতার এয়ারওয়েজ। একই সঙ্গে আকাশসীমাআংশিক বন্ধ বলে ঘোষণা করেছে সিরিয়ার সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (Syrian Civil Aviation Authority)। দেশটির দক্ষিণ দিকের আকাশপথ ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হবে।
এ দিকে শনিবার দুবাইয়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের (Explosions in Dubai) শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। বিশ্বের উঁচুতম টাওয়ার বুর্জ খালিফা (Burj Khalifa) খালি করে দেওয়া হয়। রিয়াধেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। আবুধাবির দুই বাসিন্দা জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মীদের অবস্থানের কাছাকাছি এলাকায় অন্তত দু’বার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির (Fars News Agency) দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস (Al Udeid Air Base), কুয়েতের আলি আল সালেম এয়ার বেস (Ali Al Salem Air Base), সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আল ধাফরা এয়ার বেস (Al Dhafra Air Base) এবং বাহরিনে মার্কিন নৌসেনার ফিফ্থ ফ্লিটের ঘাঁটি (US Fifth Fleet Base)।
শনিবার ভোরে ইজরায়েল (Israel) ইরানে (Iran) সরাসরি আঘাত হানার পর থেকেই পরিস্থিতির এই অবস্থা। তেহরানের (Tehran) ডাউনটাউনে ঘন ধোঁয়া ও বিস্ফোরণ দেখা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করলেও ক্ষয়ক্ষতির কোনও তথ্য দেয়নি। সবমিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি।