মার্কিন শুল্ক আর নিষেধাজ্ঞার কারণে ডিসেম্বর মাসে ভারতের রাশিয়া-উৎপন্ন অপরিশোধিত তেল আমদানি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামতে চলেছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ভারত সস্তা রুশ তেল কিনে আদতে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 December 2025 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শুরুতেই ওয়াশিংটনকে (USA) সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়লেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Russian President Vladimir Putin)। দিল্লিতে পৌঁছনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন - যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) নিজের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এখনও রুশ জ্বালানি (Russian Crude Oil) কিনছে, তখন ভারতকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রশ্নই ওঠে না।
মার্কিন শুল্ক আর নিষেধাজ্ঞার কারণে ডিসেম্বর মাসে ভারতের রাশিয়া-উৎপন্ন অপরিশোধিত তেল আমদানি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামতে চলেছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ভারত সস্তা রুশ তেল কিনে আদতে ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia-Ukraine War) মস্কোকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে। যদিও ভারত সেই যুক্তি অস্বীকার করে আগেই বলেছে - যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেরাই রুশ LNG এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সহ বহু পণ্য আমদানি করছে, তখন ভারতের ওপর চাপ প্রকৃতপক্ষে ‘অন্যায্য'।
এই একই সুর শোনা গেল পুতিনের গলাতেও। রাশিয়া–ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের (India Russia Relations) প্রসঙ্গ তুলে পুতিন বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের পরমাণু চুল্লির জন্য আজও রাশিয়া থেকে পরমাণু জ্বালানি (Crude Oil) কেনে। সেটাও তো জ্বালানি। তাহলে ভারত কেন সেই অধিকার পাবে না? বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে এবং আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও তা আলোচনা করতে প্রস্তুত।”
মার্কিন শুল্ক নিয়ে প্রশ্নে পুতিন বলেন, ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা মনে করেন এই নীতি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জন্য লাভ। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন - WTO-র নিয়ম ভঙ্গের সব ঘটনা শেষ পর্যন্ত ‘সংশোধিত’ হবে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (America) ও ইউরোপ (Europe) আরও কঠোর ভাবে রাশিয়ার তেলের (Russian oil) মূল্যসীমা (প্রাইস ক্যাপ) কার্যকর করতে শুরু করেছে এবং নিষিদ্ধ ট্যাঙ্কার বা তেল পরিবহন সংস্থার সঙ্গে লেনদেন না করার জন্য ভারত-সহ নানা দেশকে সতর্ক করছে। পুতিন অবশ্য এই চাপের গুরুত্ব কমিয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমা দেশগুলির এই প্রয়াস 'বাজারের বাস্তবতা নয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত'। তিনি বলেন, “এই ধরনের চাপ আসলে কূটনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা মাত্র।”
পুতিনের সরকারি কর্মসূচি শুরু হবে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার মাধ্যমে। এর পরে তিনি রাজঘাটে (Rajghat) গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাবেন - ভারত সফরে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য এটি প্রায় বাধ্যতামূলক কর্মসূচি হয়ে উঠেছে।
এর পর হায়দরাবাদ হাউসে (Hyderabad House) হবে ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক। সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কাজের মধ্যাহ্নভোজ। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, ভূ-কৌশল - সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ আলাপ-আলোচনা হবে বলে সূত্রের খবর।