
শেষ আপডেট: 12 October 2023 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিগামী বিমান ছাড়ার কথা আর কিছুক্ষণের মধ্যেই। কিন্তু বোর্ডিং গেটের কাছে হঠাৎই চোখ আটকে গিয়েছিল তাঁর। দেখেছিলেন, একদল যাত্রী আকুল হয়ে কাঁদছেন। তাঁদের সঙ্গে একটি বছর দুয়েকের শিশু। নড়াচড়া করছে না, শ্বাস পড়ছে না তার। আর দেরি করেননি তিনি। ডাক্তারকে খবর দিয়েই এক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সিপিআর দিতে শুরু করেন শিশুটিকে। তাঁর চেষ্টাতেই সে যাত্রা প্রাণে রক্ষা পায় একরত্তি।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বই এয়ারপোর্টে। সেদিন দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ভিস্তারার ইউকে ৯৮৬ বিমানের। কিন্তু বোর্ডিং গেটের কাছে হঠাৎই এক বিমানসেবিকার চোখে পড়ে, একদল যাত্রী হাপুস নয়নে কাঁদছেন, বিলাপ করছেন। কী হয়েছে দেখার জন্য সেখানে ছুটে যান ওই তরুণী।
তখনই জানতে পারেন, কোনও কারণ বশত ওই যাত্রীদের সঙ্গে থাকা একটি দু বছরের শিশু হঠাৎ করেই নড়াচড়া বন্ধ করে দিয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাসও বন্ধ। কোলের ছেলে আর নেই ভেবেই আকুল হয়ে কাঁদতে শুরু করেছিলেন বাড়ির লোকজন। কিন্তু শেষ চেষ্টা করতে ছাড়েননি ওই বিমানসেবিকা।
অবস্থা বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই পুরো বিষয়টা চিকিৎসককে জানান তিনি। কিন্তু ডাক্তার এসে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা না করে উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে এক সহকর্মীর সহায়তায় শিশুটিকে সিপিআর দিতে শুরু করেন তিনি। তাতেই কাজ হয়। প্রাণের স্পন্দন ফিরে আসে শিশুটির শরীরে। নড়াচড়া করতে শুরু করে সে।
প্রায় এক মাস আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সামনে এসেছি সম্প্রতি। মুম্বই বিমানবন্দরের এক কর্মী সে কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বেই একজন চিকিৎসক এসে পৌঁছান সেখানে। তিনিই শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ঘটনায় শিশুটির মা বিমানবন্দরের কর্মীদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, এখন তাঁর সন্তান ভালই আছে।