পাকিস্তানে পৌঁছনোর পরদিনই শেখুপুড়া জেলার বাসিন্দা নাসির হুসেনের সঙ্গে বিয়ে করেন সরবজিৎ। বিয়ের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম রাখা হয় ‘নূর’।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 January 2026 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানে নিগ্রহের অভিযোগ (Harassment in Pakistan) তুলে দেশে ফেরার আকুতি - একটি আবেগঘন অডিও ক্লিপ ঘিরে নতুন করে চর্চায় উঠে এল পাঞ্জাবের বাসিন্দা সরবজিৎ কৌরের (Sarabjeet Kaur) ঘটনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে এক মহিলাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করতে শোনা যাচ্ছে।
৪৮ বছর বয়সি সরবজিৎ কৌর (Sarabjeet Kaur) পাঞ্জাবের কাপুরথলা জেলার আমানিপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত বছরের নভেম্বর মাসে গুরু নানকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিখ তীর্থযাত্রীদের একটি দলে পাকিস্তানে (Pakistan) যান তিনি। ওয়াঘা সীমান্ত (Wagah Border) পেরিয়ে প্রায় ২ হাজার পুণ্যার্থীর সঙ্গে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছিলেন সরবজিৎ। কয়েক দিনের মধ্যেই অধিকাংশ তীর্থযাত্রী দেশে ফিরলেও নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।
পরে লাহোর পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানান, পাকিস্তানে (Pakistan) পৌঁছনোর পরদিনই শেখুপুড়া জেলার বাসিন্দা নাসির হুসেনের সঙ্গে বিয়ে করেন সরবজিৎ। বিয়ের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম রাখা হয় ‘নূর’ (Noor)।
ভাইরাল অডিও
ভাইরাল হওয়া অডিওতে (Viral Audio) সরবজিৎকে বলতে শোনা যায়, পাকিস্তানে তাঁর পরিস্থিতি 'ভাল নয়'। অভিযোগ, যাঁকে বিয়ে করেছেন, সেই নাসির হুসেন ও তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে নিয়মিত হেনস্থা করছেন। নিজের সন্তানদের ছাড়া থাকতে না পারার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।
অডিওতে তিনি বলেন, “আমি এখানে নিগৃহীত হচ্ছি। আমি আমার সন্তানদের ছাড়া থাকতে পারছি না। একসময় মানুষকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিতাম। আমি একজন সরদার্নি, অথচ এখন টাকা চাইতে হচ্ছে।” দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে তিনি আশ্বাসও চান - ফিরে এলে যেন তাঁর উপর আর কোনও অত্যাচার না হয়।
ওই অডিওতেই সরবজিৎ দাবি করেন, তিনি কোনও গুপ্তচর হিসেবে পাকিস্তানে যাননি। তাঁর অভিযোগ, নাসির হুসেনের কাছে তাঁর কিছু আপত্তিকর ছবি ছিল, সেগুলি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যেই তিনি পাকিস্তানে গেছিলেন।
আইনি জটিলতা
বিয়ের পর সরবজিৎ ও নাসির লাহোর হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, শেখুপুড়ার ফরুকাবাদে তাঁদের বাড়িতে পুলিশ বেআইনি তল্লাশি চালাচ্ছে এবং বিয়ে ভাঙার জন্য চাপ দিচ্ছে। সেই মামলায় বিচারপতি ফারুক হায়দার পুলিশকে দম্পতিকে হেনস্থা না করার নির্দেশ দেন।
তবে পাঞ্জাব সরকারের একটি সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সরবজিৎকে আটক করে লাহোরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ‘দারুল আমান’-এ পাঠায়। তাঁর স্বামী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
সূত্রের দাবি, সরবজিৎকে ভারত ফেরানোর চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু ওয়াঘা–আটারি সীমান্ত বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
আগের বক্তব্যে ভিন্ন সুর
এর আগে একটি ভিডিও বার্তায় সরবজিৎ জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পাকিস্তানে গিয়ে বিয়ে করেছেন। তিনি ইসলামাবাদে ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে ভিসা বাড়ানোর আবেদনও করেছিলেন এবং পাকিস্তানের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি তখন বলেছিলেন, “আমি ডিভোর্সি। আমি নাসিরকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম বলেই এখানে এসেছি। আমি খুশি হয়েই বিয়ে করেছি।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রাক্তন বিধায়ক মহিন্দর পাল সিং লাহোর হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। তাঁর অভিযোগ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তানে থাকা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছে এবং গোটা বিষয়টি সন্দেহজনক।
ভাইরাল অডিওর জেরে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে - সরবজিৎ কৌর কি সত্যিই বিপদের মধ্যে রয়েছেন, নাকি এটি আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতায় ঘেরা একটি ঘটনা?