আদালত আগেই জানিয়েছিল, মালিয়া যদি চান তাঁর আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হোক তবে তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হবে। এরপরই মালিয়া নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে লিখিত বিবৃতি পাঠিয়েছেন।

বিজয় মালিয়া
শেষ আপডেট: 19 February 2026 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনই দেশ ফিরতে পারবেন না পলাতক শিল্পপতি বিজয় মালিয়া (Vijay Mallya)। বম্বে হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ব্রিটিশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ছেড়ে বেরোতে পারেন না। তাই কবে ভারতে ফিরতে পারবেন, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না তিনি।
বুধবার বম্বে হাইকোর্টে (Bombay High Court) চলা মামলায় মালিয়ার আইনজীবী আদালতের সামনে তাঁর লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। সেখানে মালিয়া দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে ভারত সরকার (Indian Govt) তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়, ফলে বর্তমানে তাঁর কাছে কোনও বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট (Indian Passport) নেই। এর পাশাপাশি ইংল্যান্ডের আদালতও তাঁর দেশত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা (Mallya UK court restrictions) জারি করেছে। তাই বিদেশ ভ্রমণের নথি পাওয়া বা নিজের কাছে রাখা- দুটোর কোনওটিই তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
কী নিয়ে মামলা চলছে?
বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন (FEO Act)-এর আওতায় মামলা চলছে। সেই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মালিয়া বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর এবং বিচারপতি গৌতম অঙ্খড়ের বেঞ্চে শুনানি চলছে।
আদালত আগেই জানিয়েছিল, মালিয়া যদি চান তাঁর আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হোক তবে তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হবে। এরপরই মালিয়া নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে লিখিত বিবৃতি পাঠিয়েছেন।
তবে হাইকোর্টের তরফেও জানানো হয়েছে, "শুধুমাত্র একটি বিবৃতি যথেষ্ট নয়। বিজয় মালিয়াকে হলফনামা জমা দিতে হবে।" বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “আমরা আগেই যথেষ্ট সময় দিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি শুধু বিবৃতি দিয়েছেন, হলফনামা দাখিল করেননি।”
আগামী ১১ মার্চের মধ্যেই পলাতক শিল্পপতিকে হলফনামা জমা দেওয়ার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট।
কেন্দ্রের বক্তব্য
কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, মালিয়া যদি সত্যিই দেশে ফিরতে চান, সরকার তাঁর ভ্রমণ নথি দিতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, “যদি কেউ দেশ ছেড়ে পালায়, আইন তার নিজের পথে চলবেই।”
কেন এত বিতর্ক?
বিজয় মালিয়া (Vijay Mallya) ২০১৬ সালে দেশ ছাড়েন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ ফেরত না দিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। ২০১৯ সালে তাঁকে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই তিনি এখন হাইকোর্টে লড়ছেন।