স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার সম্পূর্ণ দায় চাপানো হয়েছে মহিলার উপর। আদালতে তাঁকে নিজের আঘাত দেখাতে হবে, তাও সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রেখে। সেই সঙ্গে আদালতে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে স্বামী বা কোনও পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 08:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানে নতুন দণ্ডবিধি জারি করে কার্যত গার্হস্থ্য হিংসাকে বৈধতা দিল তালিবান (Taliban)। এই আইনে (Afghanistan new penal code) স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত একটাই, 'হাড় ভাঙলে' চলবে না বা 'ক্ষত' যেন না হয় (Taliban domestic violence law)।
এই নতুন আইন স্বাক্ষর করেছেন তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতোল্লা আখুন্দজাদা (Hibatullah Akhundzada)। তবে শুধু গার্হস্থ্য হিংসা (Domestic Violence) নয়, এই দণ্ডবিধি আফগান সমাজে এক নতুন ধরনের শ্রেণিবিভাজনও তৈরি করেছে, যেখানে অপরাধের শাস্তি নির্ভর করছে অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থানের উপর (Human Rights violation)।
প্রমাণের দায় মহিলাদের উপর, তবেই শাস্তি স্বামীর
আইন অনুযায়ী, কোনও স্বামী যদি “অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ”-এর ফলে স্ত্রীকে দৃশ্যমান আঘাত বা হাড় ভাঙার মতো ক্ষতি করেন, তবেই সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে, তাও মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড (Afghanistan new penal code women rights)।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার সম্পূর্ণ দায় চাপানো হয়েছে মহিলার উপর। আদালতে তাঁকে নিজের আঘাত দেখাতে হবে, তাও সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রেখে। সেই সঙ্গে আদালতে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে স্বামী বা কোনও পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে, কোনও বিবাহিতা মহিলা যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়দের বাড়ি যান, তবে তাঁকে তিন মাস পর্যন্ত কারাবাসের মুখে পড়তে হতে পারে।
সমাজে নতুন ‘শ্রেণিবিভাগ’, শাস্তিতেও বৈষম্য
এই দণ্ডবিধির ৯ নম্বর ধারায় আফগান সমাজকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে - ধর্মীয় পণ্ডিত (উলেমা), অভিজাত শ্রেণি (আশরফ), মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। এই ব্যবস্থায় একই অপরাধের শাস্তি আর অপরাধের গুরুত্বের উপর নির্ভর করছে না, বরং নির্ভর করছে অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থানের উপর।
গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শারীরিক শাস্তি কার্যকর করবেন ইসলামি ধর্মগুরুদেরাই, সংশোধনাগার নয়।
পুরনো নারী সুরক্ষা আইন বাতিল
এই ৯০ পাতার নতুন দণ্ডবিধি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০০৯ সালের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (EVAW), যা আগের মার্কিন সমর্থিত সরকারের আমলে চালু হয়েছিল, বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
ভয়ের পরিবেশ, মুখ খুলতেও আতঙ্ক
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই আইন নিয়ে প্রকাশ্যে তো দূরের কথা, গোপন পরিচয়েও কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কারণ তালিবান নতুন নির্দেশ জারি করেছে, এই আইন নিয়ে আলোচনা করাও অপরাধ বলে গণ্য হবে।
আফগান মানবাধিকার সংগঠন রাওয়াদারি (Rawadari), যা বর্তমানে নির্বাসনে কাজ করছে, তারা রাষ্ট্রসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছে আবেদন জানিয়েছে, এই দণ্ডবিধির বাস্তবায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং আইনি সব পথ ব্যবহার করে তা রুখতে।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ
মহিলা ও কন্যাশিশুদের উপর হিংসা বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিম আলসালেম সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “এই নতুন আইনের প্রভাব মহিলাদের জন্য ভীতিকর। তালিবান বুঝে গিয়েছে, তাদের থামাতে কেউ এগিয়ে আসবে না।” তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক মহল কি আদৌ এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে? আর করলে, কবে?