সিসিটিভি ফুটেজটি গত ২৯ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের। মনে করা হচ্ছে, সেদিনই গাড়িটি বিক্রি হয়েছিল সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী ডা. উমর মহম্মদ-র কাছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি একটি পিইউসি বুথের পাশে দাঁড়িয়ে।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে তিনজন
শেষ আপডেট: 11 November 2025 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়াদিল্লিতে (New Delhi) লালকেল্লার (Red Fort) কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আগের এক সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) হাতে পেয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। ফুটেজে দেখা গেছে, সাদা রঙের হুন্ডাই আই-২০ গাড়ি দূষণ পরীক্ষা (PUC টেস্ট) করাতে এসেছেন তিন যুবক। ঠিক এই গাড়িটিই সোমবার সন্ধেয় বিস্ফোরিত হয়, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন।
সিসিটিভি ফুটেজটি গত ২৯ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের। মনে করা হচ্ছে, সেদিনই গাড়িটি বিক্রি হয়েছিল সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী ডা. উমর মহম্মদ-র কাছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গাড়িটি একটি পিইউসি বুথের (PUC Booth) পাশে দাঁড়িয়ে। একজন যুবক, যিনি শার্ট পরেছিলেন, বুথের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। কিছুক্ষণ পর আরও দুই ব্যক্তি আসেন - একজন ধূসর টি-শার্টে, অন্যজন সাদা টি-শার্ট ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে। এই দুই দাড়িওয়ালা যুবকের একজনই নাকি তারিক মালিক, যিনি গাড়ি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন বলে সন্দেহ। দূষণ পরীক্ষা শেষ করে তিন জনকেই গাড়িতে উঠে চলে যেতে দেখা যায়।
दिल्ली ब्लास्ट में नया खुलासा, 29 अक्टूबर को i20 कार
HR 26 CE 7674 खरीदी गई थी ।उस समय इस कार का प्रदूषण कराया गया था और उस वक्त कर के साथ तीन लोग मौजूद हैं । वीडियो 29 अक्टूबर शाम 4 बजकर 20 मिनट का है। शक है कि वीडियो में लंबी दाढ़ी में तारिक भी मौजूद है, जिसके नाम पर डॉक्टर… pic.twitter.com/RolatSXU9B— Dharmendra Singh (@dharmendra135) November 11, 2025
এটি সেই একই গাড়ি, যা সোমবার বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের পাশে পার্কিং লটে ঢোকে। পরে সন্ধে ৬টা ৩০ মিনিটে গাড়িটি ওই জায়গা ছাড়ে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়ির জানালার কাছে হাত রাখা অবস্থায় বসে আছেন সন্দেহভাজন আত্মঘাতী ডা. উমর। সূত্রের খবর, গাড়ি পার্ক করার পর তিনি একবারের জন্যও বাইরে বের হননি। সম্ভবত কারও নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গাড়ির আসল মালিক মহম্মদ সালমান মার্চ মাসে সেটি দেবেন্দর নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। দেবেন্দর সেটি বিক্রি করেন আমির রশিদের কাছে, যিনি পরে গাড়িটি উমর মহম্মদের হাতে তুলে দেন। এই গোটা প্রক্রিয়ায় তারিক মালিকও জড়িত ছিলেন। মোট সাতবার হাতবদল হয় গাড়িটি।
বিস্ফোরণটি হয় সোমবার সন্ধে ৬টা ৫২ মিনিটে, লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। একাধিক গাড়ি ও দেহ ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও দমকল। আহতদের নেওয়া হয় লোক নায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে।
উল্লেখ্য, বিস্ফোরণের দিনই দিল্লি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের ফরিদাবাদে উদ্ধার হয় প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক সামগ্রী। সূত্রের দাবি, সহচরদের গ্রেফতারের খবর পেয়ে ঘাবড়ে গিয়ে নিজেই বিস্ফোরণ ঘটান উমর মহম্মদ।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছিল ‘অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল’ বা ‘এএনএফও’— যা সাধারণত শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সন্ত্রাসবাদীরা এটি ব্যবহার করে থাকে শক্তিশালী বিস্ফোরক হিসেবেও।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে চারপাশের রাস্তার আলো ভেঙে যায়, একাধিক গাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই। আশপাশে যেখানে কাচ ছিল, সব ঝনঝন করে পড়ে যায়। লালকেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থানের এতোটা কাছে, এত বড় বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো রাজধানীতে। দিল্লিকে ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। সতর্কতা জারি হয়েছে মুম্বই, কলকাতা-সহ অন্যান্য জায়গায়ও।