লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে এক ব্যক্তির দেহ ছিটকে গিয়ে গাছে ঝুলে পড়ে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দৃশ্যটি ছিল শিউরে ওঠার মতো। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি জইশ-ই-মহম্মদের মডিউলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 11 November 2025 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণ কাঁপিয়ে দিল রাজধানীকে। সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, আহত একাধিক। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই উদ্ধারকর্মীরা দেখেন, এক ব্যক্তির দেহ গাছে ঝুলছে, বিস্ফোরণের প্রচণ্ড তীব্রতায় ওই দেহ ছিটকে গিয়ে গাছে আটকে যায় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে চারপাশের রাস্তার আলো ভেঙে যায়, একাধিক গাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই। আশপাশে যেখানে কাচ ছিল, সব ঝনঝন করে পড়ে যায়। লালকেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থানের এতোটা কাছে, এত বড় বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো রাজধানীতে। দিল্লিকে ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। সতর্কতা জারি হয়েছে মুম্বই, কলকাতা-সহ অন্যান্য জায়গায়ও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বার বার বলছেন, 'একটুর জন্য বেঁচে গেছি, যা হল তা যত বেঁচে থাকব ভুলব না।' বিস্ফোরণের মুহূর্তে এলাকাজুড়ে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিস্ফোরণ এত জোরে হয়েছিল যে তাঁদের মনে হয় মাটি ফেটে যাচ্ছে। তিনি তিনবার পড়ে যান দৌড়তে গিয়ে। সবাই প্রাণ বাঁচাতে দৌড়চ্ছিল। যদি দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হত, কেউই বাঁচত না!
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে বিস্ফোরিত হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি একাধিকবার হাতবদল হয়েছিল মাত্র কয়েকমাসে। পুলিশ কয়েকজন প্রাক্তন মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। সূত্রের দাবি, পুলওয়ামার বাসিন্দা চিকিৎসক উমর মহম্মদ ওই গাড়িতেই ছিলেন। তিনিই বিস্ফোরণে নিহত বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি ফারিদাবাদে ধরা পড়া একটি সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
একই দিনে ফরিদাবাদের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ, প্রায় ২,৯০০ কেজি আইইডি তৈরির রাসায়নিক পদার্থ। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে জইশ-ই-মহম্মদ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ যুক্ত মডিউলের এক চিকিৎসক, মুজাম্মিল শাকিল। সূত্রের দাবি, তার গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পরই আতঙ্কে উমর এই হামলার পরিকল্পনা কার্যকর করেন।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছিল ‘অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল’ বা ‘এএনএফও’— যা সাধারণত শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সন্ত্রাসবাদীরা এটি ব্যবহার করে থাকে শক্তিশালী বিস্ফোরক হিসেবেও।