২০২৭ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা অর্ধকুম্ভ মেলা (Ardh Kumbh Mela)-র আগে হরিদ্বারের (Haridwar) গঙ্গাঘাটে অ-হিন্দুদের (মুসলিম) প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে উত্তরাখণ্ড সরকার (Uttarakhand Government)।

৪৫ দিনব্যাপী অর্ধকুম্ভ মেলা শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি, মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2027) দিন। মেলা চলবে মহাশিবরাত্রি (Maha Shivratri 2027) পর্যন্ত।
শেষ আপডেট: 7 January 2026 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা অর্ধকুম্ভ মেলা (Ardh Kumbh Mela)-র আগে হরিদ্বারের (Haridwar) গঙ্গাঘাটে অ-হিন্দুদের (মুসলিম) প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে উত্তরাখণ্ড সরকার (Uttarakhand Government)। এদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (Vishwa Hindu Parishad) এক নেত্রী হরিদ্বারের গঙ্গাঘাটগুলিতে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছেন। তাঁর যুক্তি, বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পবিত্র শহরের ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি।
৪৫ দিনব্যাপী অর্ধকুম্ভ মেলা শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি, মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2027) দিন। মেলা চলবে মহাশিবরাত্রি (Maha Shivratri 2027) পর্যন্ত। রাজ্য সরকারের অনুমান, এই সময়ে হরিদ্বারে ৬ থেকে ৭ কোটি ভক্তের সমাগম হতে পারে। VHP নেত্রী সাধ্বী প্রাচী (Sadhvi Prachi) বলেন, কুম্ভমেলার এলাকা ও হর-কি-পৌরিকে (Har Ki Pauri) ‘অমৃত ক্ষেত্র’ ঘোষণা করা উচিত এবং সেখানে অ-হিন্দুদের প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পবিত্র স্থানে তথাকথিত ‘জেহাদি কার্যকলাপ’-এর ঘটনা ঘটেছে এবং এই ধরনের লোকজন এত বড় হিন্দু মহোৎসবের মুখে গুরুতর ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।
সাধ্বী প্রাচী আরও বলেন, জানতে পেরেছি সম্প্রতি দিল্লি থেকে আসা কয়েকজন মহিলা খারাপ উদ্দেশ্যে হরিদ্বারে এসে গঙ্গাস্নান করেছেন। এ ধরনের কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। পাশাপাশি কুম্ভ এলাকায় ‘জেহাদি লোকজনের’ প্রবেশ রুখতে বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবিও জানান তিনি। শুধু তাই নয়, ওই অঞ্চলে অ-হিন্দুদের জমি বা সম্পত্তি কেনার উপরেও বিধিনিষেধ আরোপের দাবি তোলেন VHP নেত্রী।
মক্কা ও মদিনার (Mecca–Medina) উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেভাবে সেখানে অ-মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, তেমনই হরিদ্বারের ক্ষেত্রেও অনুরূপ নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত, যাতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। গত বছর দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার (Red Fort) কাছে হওয়া গাড়িবোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে সাধ্বী প্রাচী বলেন, ওই হামলায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছিল। যদি এমন কোনও পদার্থ গঙ্গাজলে মেশানো হয়, যেখানে কোটি কোটি মানুষ স্নান করেন, তাহলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে এবং বহু প্রাণহানি হতে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, হরিদ্বারের প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে থাকা ১০৫টি গঙ্গাঘাটে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। শ্রীগঙ্গা সভার (Shri Ganga Sabha) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের তরফে এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই সরকারকে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি (Pushkar Singh Dhami) সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই বিষয়ে আলোচনার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, হরিদ্বার একটি পবিত্র শহর। তার ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উত্তরাখণ্ডের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়— এই ‘দেবভূমি’কে রক্ষা করতে ১৯১৬ সালে পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যর (Pandit Madan Mohan Malaviya) উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক চুক্তিসহ আইনগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।