ভিএইচপি সব দোকানে গিয়ে একটি করে স্টিকার দিয়ে আসছে। শহরে বেশিরভাগ রেস্তরাঁ, মুদির দোকান এবং হোটেলে গিয়ে এই স্টিকার সেঁটে দেওয়া হচ্ছে।

কাঁওয়ার যাত্রীর ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 11 July 2025 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদাঙ্ক অনুসরণ না করলেও দিল্লির নবনির্বাচিত বিজেপির রেখা গুপ্তা (Delhi CM Rekha Gupta) সরকারের দায়িত্ব হাতে তুলে নিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। ১১ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা শ্রাবণ মাস ভর কাঁওয়ার যাত্রার আগে মাছ-মাংস সহ আমিষ দোকান বন্ধ নিয়ে রাজনীতির ময়দানে দড়ি টানাটানি চলছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, এই উপলক্ষে আগামী ১০ জুলাই থেকে রাজ্যের মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। কাঁওয়ার জলযাত্রীদের পথের দুধারে কোথাও যেন মাংস বিক্রি না হয়। এবার দিল্লির সরকারের মন্ত্রী কপিল মিশ্র জানিয়ে দেন, কাঁওয়ার যাত্রার (Kanwar Yatra) সময়ে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকাতেও মাংসের দোকান খোলা যাবে না।
মিশ্র বলেন, দিল্লিতে (Delhi) যেসব মাংসের দোকান রয়েছে, তার অধিকাংশ অবৈধ। কাঁওয়ার যাত্রার সময় কোনও মাংসের দোকানই খোলা যাবে না। যদিও দিল্লি পুলিশের তরফে এখনও কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি। কোন রাস্তা দিয়ে কাঁওয়ার যাত্রীরা যাবেন, তাও জানায়নি পুলিশ। উল্লেখ্য, দিল্লি পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতর। তবে কাঁওয়ার জলযাত্রীরা দিল্লির সব রাস্তা ধরেই যান।
কিন্তু, সরকার বা প্রশাসন কিংবা পুলিশ কোনও নোটিস না দিলেও কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দিল্লির দোকানদারদের ‘সনাতনী সার্টিফিকেট’ দিচ্ছে। কাঁওয়ার যাত্রাপথের দুধারের দোকানি সহ প্রায় দোকানে গিয়েই ‘সনাতনী সার্টিফিকেট’ দেওয়ার অভিযান শুরু করেছে পরিষদ। তাদের দাবি, শিবঠাকুরের আপন দেশে সনাতন হিন্দু সংস্কৃতি বিস্তারের উদ্দেশ্য এই মাসে যাতে সব দোকানে নিরামিষ খাবার বিক্রি করা হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। যা দোকানের সামনে চোখে দেখা যায়, এমনভাবে টাঙিয়ে রাখতে হবে।
একটি হিন্দি সংবাদমাধ্যমের খবর, ভিএইচপি সব দোকানে গিয়ে একটি করে স্টিকার দিয়ে আসছে। শহরে বেশিরভাগ রেস্তরাঁ, মুদির দোকান এবং হোটেলে গিয়ে এই স্টিকার সেঁটে দেওয়া হচ্ছে। তার আগে ভিএইচপি কর্মীরা দোকান-রেস্তরাঁয় ঢুকে মালপত্র ও গুদামঘর ঘেঁটে দেখে মিলিয়ে নিচ্ছেন যে, সেখানে কোনও আমিষ দ্রব্য রয়েছে কিনা। স্টিকারে প্রমাণ মিলবে যে, এই দোকানটি সনাতন হিন্দু দোকান। যেখানে ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে বিকিকিনি হয়।
এই অভিযানে ভিএইচপি ১৫০টি দল গঠন করেছে। তারা দিল্লির ১৭৩টি ব্লকে ঘুরে কাজ করছে। কর্মীরা দরজায় দরজায় ঘুরছেন। তাঁদের সাহায্য করছেন স্থানীয় মন্দির, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলি। এই অভিযান গোটা জুলাই মাস পর্যন্ত চলবে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৫০০০ দোকান পরিদর্শনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে হিন্দু সংগঠনটি। ভিএইচপির রাজ্যমন্ত্রী সুরেন্দ্র গুপ্তা ওই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই অভিযানের সদুদ্দেশ্য হল বিশুদ্ধতার মান বজায় রাখা।
যদিও বৃহস্পতিবার দিল্লি পুরসভা জানিয়েছে, ১৯৫৭ সালের আইনে পুণ্যার্থীদের জন্য মাংসের দোকান বন্ধ রাখার কোনও বিধি নেই। ফলে কাঁওয়ার যাত্রাপথেও কোনও মাংসের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ পুরসভা দিতে পারবে না। একইসঙ্গে কাঁওয়ার যাত্রীদের জন্য যেসব সুযোগসুবিধামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও জানিয়ে দিয়েছে পুরসভা।
সব মিলিয়ে দোকানদার ও বাসিন্দারা এখনও ধন্দে রয়েছেন। কোনও দোকানদারই এখনও সরকারিভাবে কোনও নোটিস হাতে পাননি। সেইভাবে কোনও নির্দেশও দেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। উল্লেখ্য, দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় প্রচুর মাংসের দোকান রয়েছে। যেখানে কাঁচা ও রান্না মাংস বিক্রি হয়। দোকানদারদের বক্তব্য, প্রশাসন নির্দেশ দিলে বন্ধ রাখতেই হবে। কিন্তু, মাসখানেক ধরে বিক্রিবাট্টা বন্ধ রাখলে তাঁরা খাবেন কী?
নিজামুদ্দিন ছাড়াও গাজিপুর হল এ অঞ্চলের সবথেকে মাংসের বাজার এলাকা। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানা ঘেঁষা এই এলাকায় মাসভর বাজার বন্ধ থাকবে। দিল্লি, এনসিআর সহ নয়ডা, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদেও এখান থেকে মাংস সরবরাহ হয়। এখান থেকেই গিয়েছে জাতীয় সড়ক। কাঁওয়ার যাত্রীরা হাজারে হাজারে এই রাস্তা ধরেই যান। এবং গাজিপুরের প্রধান বাজারগুলিও জাতীয় সড়কের লাগোয়া। মন্ত্রীর দাবি অমান্য করে মাংসের দোকানিরা বলেন, কোনওটাই অবৈধ নয়। পুরসভার অন্দরেই এগুলি রয়েছে। অনেকেই রশিদও দেখালেন। তা সত্ত্বেও সরকার বললে তো দোকানের ঝাঁপ বন্ধ রাখতেই হবে, ক্ষোভের সঙ্গে জানান তাঁরা।